দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গত বছরের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হন পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার কালাইয়া গ্রামের বেল্লাল হোসেন হাওলাদার। চিকিৎসার অভাবে তার ডান হাতটি কেটে ফেলতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় দিন কাটছে বেল্লাল ও তার পরিবারের সদস্যদের।
বেল্লালের পিতা আব্দুল বারেক হাওলাদার এলাকায় ছোট দোকান নিয়ে চা বিক্রি করেন। ৬ জন ছেলের মধ্যে বেল্লাল ৫ম। অভাবের সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য ১২ বছর আগে ঢাকায় যান বেল্লাল। যাত্রাবাড়ী এলাকায় ডাব ও কলার আড়তে কাজ করতেন তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন। যা আয় করতেন, তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্যও কিছু টাকা পাঠাতেন।
বেল্লালের পিতা বারেক হাওলাদার আক্ষেপ করে বলেন, ‘মোর পোলার কী দোষ ছিল? পুলিশে গুলি কইরা ডান হাতটা শেষ করে দিছে। চিকিৎসা করাইতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হইছে। সংসার চলে না, ডাক্তার কইছে বিদেশে চিকিৎসা করানো লাগবে। কিন্তু টাকা নাই। কেমনে চিকিৎসা করামু।’
বেল্লালের মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমার পোলা বেল্লালরে গুলি করছে হাসিনার পুলিশে, ওই গুলিটা যদি বুকে লাগতো তাহলে আজ কোথায় পাইতাম। এখন আমাদের সংসারও চলে না, পোলার চিকিৎসাও চলে না। সরকারের কাছে আমার পোলার জন্য একটা কর্মসংস্থানের দাবি করি এবং সকল অপরাধীর বিচারের দাবি জানাই।’
গত বছরের ১৯ জুলাই (শুক্রবার) সকালে বাজার করে বাসায় ফেরার পথে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে একটা গুলি এসে বেল্লালের ডান হাতের বাহুতে বিদ্ধ হয়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রোগীর চাপ থাকায় ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।
আহত বেল্লাল জানান, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসন থেকে দুই লক্ষ টাকা চিকিৎসার জন্য পেয়েছি। বিদেশে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ডাক্তার বলেছেন, চিকিৎসা না করালে হাত কেটে ফেলা হতে পারে। কিন্তু অর্থের অভাবে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে পারছি না। নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
একাধিক প্রতিবেশী জানান, বেল্লালের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দরকার। পরিবারটি খুবই অসহায়। টাকার অভাবে পরিবার চিকিৎসা করাতে পারছে না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বেল্লালের উন্নত চিকিৎসার পরে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান করে দেওয়া হোক৷
ইন্দুরকানী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করিম তালুকদার ইমন বলেন, আহত বেল্লালের পরিবারের লোকজন বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানালে সমাজসেবা অফিস থেকে সহযোগিতার ব্যবস্থা করে দেবে। আমি বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবগত করবো।
বিষয়টি নিয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান বিন মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য জানতে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত বেল্লালকে চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার সকল শহিদ পরিবার এবং অধিকাংশ আহতদের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, আগামীতেও তাদের সবধরনের সহায়তা করা হবে।
/অ