দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
নোয়াখালীতে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাঁচটি উপজেলায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলাগুলো হলো- সদর, বেগমগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সেনবাগ। এর মধ্যে বেশি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও সেনবাগ। নোয়াখালীতে গত কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে প্রায় ৪২ হাজার পরিবার।
শুক্রবার (১১ জুলাই) জেলা প্রশাসন সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রে আরও জানা যায়, জেলাতে মোট ৪৬৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১০০ মানুষ। আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ৪০ ঘরবাড়ি। ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৫০০ মানুষের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছে ২৪০টি গবাদি পশু।
সূত্র আরও জানায়, নোয়াখালী সদর, কবিরহাট ও সেনবাগ উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি। নোয়াখালী সদর উপজেলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৩০ হাজার। এছাড়া সেনবাগে ৩ হাজার ৮৭০, কবিরহাটে ৩ হাজার ৬৫০, কোম্পানীগঞ্জে ৩ হাজার ৫২০, সুবর্ণচরে ৫০০ ও হাতিয়ায় উপজেলায় ৩০০ পরিবার। জলাবদ্ধতায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০টি ঘর।
জেলার ৫৭টি ইউনিয়নে অন্তত ২ লাখ ৩ হাজার মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের জন্য ৫১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে কাজ করছে ২৯টি।
জেলা শহর মাইজদীর বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস জলমগ্ন হয়ে আছে। এছাড়া পুরো শহরের সড়কগুলোতে এখনও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে তলিয়ের আছে শহরের একমাত্র বাজার নোয়াখালী পৌর বাজার। ফলে সড়কে বাজার বসানো হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা অকার্যকর। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পুরো পৌরবাসীকে। একই সঙ্গে কর্মজীবী মানুষ এবং যানবাহনের চালকসহ নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এক প্রকার কাজকর্মহীন হয়ে আছে।
মধুসুদনপুর এলাকার বাসিন্দা রবিন বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর আজ সকাল পর্যন্ত তেমন বৃষ্টি হয়নি। সকালে একটু রোদের মুখ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘের খেলা শুরু হয়েছে। ফলে আবার বৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। গতবারের বন্যার কঠিন স্মৃতি এখনো দাগ কাটছে না।
হরিনারায়ণপুর এলাকার একরামুল হক বলেন, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন বাসাবাড়ির আঙিনায় পানি জমে আছে। পানি নামছে না। এ কারণে আমাদের দুর্ভোগও কমেনি। পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। সব নালা, ড্রেন, জলাশয় ও পুকুর ভরাট হয়ে গেছে।
ওসমান নামে একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন, পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় চলতে গিয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। গর্তে গাড়ি আটকে ইঞ্জিনে অকেজো হয়ে যাচ্ছে।
ইকবাল হোসেন নামে আরেকজন বলেন, ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনার কারণে পানি ধীরগতিতে নামছে। এ কারণে বৃষ্টি কমলেও শহরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমেনি। জেলা শহর মাইজদীসহ আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাঘাট এখনো পানির নিচে। সকালে একটু রোদের দেখা মিলেছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে। আবার যদি বর্ষণ হয়, তাহলে গতবারের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি বেড়েছে। আমরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য চেষ্টা করছি। জলাবদ্ধতা দূর করতে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পানি চলাচলের পথগুলো সচল করে দিচ্ছে। বৃষ্টি না হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
আরএ