দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় পারিবারিক ও বসতভিটার বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাই ভাতিজারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী ভাবে কুপিয়ে চাচা রাধানাথ (৫৮) কে খুন করেছে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার সময় উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামের রায়পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাধানাথ ওই গ্রামের মৃত কার্ত্তিক চন্দ্র দাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান,বড় ভাই নৃপেন চন্দ্র দাস ওরফে খলসা ও নিহত ছোট ভাই রাধানাথ পৈত্রিকসুত্রে প্রাপ্ত বসতভিটায় পাশাপাশি বসবাস করেন।
এ কারণে বসতবিটার ভাগাভাগি ও সীমানা নিয়ে বড় ভাই নৃপেন চন্দ্র দাস খলসা ও তার ছেলে ঠাকুর এবং সত্যন্দ্রনাথের সঙ্গে নিহত রাধানাথের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এরইজের ধরে ঘটনার আগের দিন বড় ভাই খলসা বাড়ির সীমানা ঘেঁষে টয়লেট স্থাপন করতে যান। এসময় নিহত রাধানাথ টয়লেট স্থাপনে বাধা দিলে দুই ভাইয়ের মধ্যে তুমুল বাগবিতন্ডা হয়।
খলসার বড় ছেলে ঠাকুর দীর্ঘদিন থেকে বগুড়ায় থাকেন। তিনি ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে ওইদিন রাতে বাড়িতে ছুটে আসেন। ঘটনার দিন রাধানাথ বাড়ির সামনে ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে যায়। এরইমধ্যে ভাই খলিসা ও তার দুই ছেলে ঠাকুর ও সত্যন্দ্রনাথ ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী ভাবে কুপিয়ে রাধানাথ কে রক্তাত্ত জখম করে। আশেপাশের লোকজন তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাধানাথকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসী জানায়, পরিবারের সবাই একই বাড়িতে বসবাস করেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রাধানাথ গরুকে পানি খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় চাচা-ভাতিজার মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে ঠাকুর হাঁসুয়া দিয়ে রাধানাথে মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। রাধানাথের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনিরুল ইসলাম তালুকদার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাধানাথের স্ত্রী ঝলমলি বলেন,আমার স্বামীকে তার ভাই-ভাতিজারা পরিকল্পিতভাবে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।
নিহতের ভাই পোলাদ বলেন, কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে যারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজ উদ্দিন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাধানাথের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে আছে। এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে সুমন চন্দ্র দাস বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা রুজু করেছেন।
এফএইচ/