দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান খোকনের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১০ জুন) উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন সাগর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ডিলার নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তোলেন। পরে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বুধবার (১১ জুন) বিকেলে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাদ্যবান্ধব ডিলারশিপ নিয়োগের সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা।
রায়পুরা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন সাগর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, ‘রায়পুরা উপজেলার যে সকল নেতারা ৫০ হাজার, ১ লাখ টাকার বিনিময়ে খাদ্যের ডিলারশিপ লাইসেন্স বিক্রি করেছেন, তাদের মুখোশ শিগগিরই উন্মোচন করা হবে।’

আর ওই পোস্টে কয়েকজন মন্তব্য করেছেন। আশিক আহমেদ নামে মন্তব্য করেন, ‘একদিন উপজেলায় গেছিলাম, আমার কাছে ১ লাখ টাকা চাইছে, আপনি পরিচিত দেখে মনে হয় ৫০ হাজার চাইছে, ৫ জন নেতার এক সিন্ডিকেটে।’
আসাদুজ্জামান আসাদ নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘৫ তারিখের পরে রায়পুরার কিছু সিনিয়র নেতাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় আগেই ভালো আছিলাম।’
রায়পুরা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন সাগর সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত সময়ের নির্যাতিত কিছু দলীয় নেতা ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তাদের বঞ্চিত করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের লোকদের একটা অংশ দিয়ে দেওয়া হয়, আর ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়। এই ডিলারশিপের জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আমার কাছে টাকা চাইলে আমি স্পষ্ট করে বলে দেই, ১০ পয়সা খরচ করেও লাইসেন্স নেবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিয়োগ প্রকল্পের সভাপতি রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা। তিনি স্বাধীনভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি দলীয় নেতাকর্মীদের চাপের কারণে। এই সিন্ডিকেটে কাজ করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান খোকনসহ উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা।’
অভিযোগের সম্পর্ক জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাগর বিকারগ্রস্ত লোক। কারো কাছ থেকে টাকা নেবো, এটা চিন্তা করাই ভুল। আমি ইউএনও মহোদয়ের কাছে কোনো নাম দেইনি। আমি সকল বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করি। সাগর নিজের নামে না করে আরেকজনের নামে চুক্তিতে আবেদন করেছে। এখন তার নাম না থাকায় টাকা পাবে না বলে এসব করছে।’
এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে ১১৫টি আবেদন পড়েছে। উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে ৪৮ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এই ডিলার নিয়োগে আমাদের অগোচরে অনেক কিছু হয়েছে, যা আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। যার কারণে এটা আমরা স্থগিত করে দিয়েছি। পরবর্তীতে এটা আমরা লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করবো। অনিয়মের ব্যাপারে অফিস খোলা হলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।’
/অ