দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় এবার কুরবানি হয়েছে দেড় হাজারের মতো পশু। তবে কুরবানির পশুর চামড়া কিনতে এবার কোনো ব্যাপারী না আসায় এসব চামড়ার বেশির ভাগ পুঁতে ফেলা হয়েছে। আর মাদরাসায় দান করা চামড়া ১৩০ থেকে ২০০ টাকা দরে কিনে নিয়েছেন মৌসুমি ক্রেতারা।
বিভিন্ন মাদরাসা ও কুরবানিদাতা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় হাজার দেড়েক গরু, ছাগল কুরবানি করা হয়েছে এবার। এর মধ্যে শ পাঁচেক চামড়া মাদরাসায় দান করা হলেও সন্ধ্যা নাগাদ কোনো ব্যাপারী না পেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীর কাছে ১৩০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করে পচন ঠেকিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। আর অবশিষ্ট বেশির ভাগ চামড়া কিনতে বা সংগ্রহ করতে কেউ না যাওয়ায় তারা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।
উপজেলা সদরের দারুচ্ছুন্নাহ হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার পরিচালক মাওলানা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও মাদরাসায় সংগৃহীত (দানকৃত) চামড়া নিয়ে চরম বেগ পেতে হয়েছে! সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো ব্যাপারী না আসায় জনৈক মৌসুমি ব্যবসায়ীকে ২০০ টাকা দরে ২০০ চামড়া বিক্রি করেছি।’
তিনটহরী মহিসুন্নাহ মাদরাসা ও এতিমখানার পরিচালক মাওলানা ফরিদ আহমেদ বলেন, কিনা বা অনুদান পাওয়া চামড়া নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ১৩০ টাকা হারে দেড় শতাধিক চামড়া এলাকার এক ব্যক্তি কিনে শহরে নিয়ে গেছেন।
যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. আবদুল মতিন বলেন, চামড়া কিনতে কেউ না আসায় এলাকার সব কুরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
বাটনাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আবদুর রহিম জানান, এলাকায় কুরবানি পশুর চামড়া কিনতে কেউ আসেনি। অনেকে মাদরাসায় চামড়া দিয়ে দিয়েছে।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতিউল ইসলাম বলেন, একসময়ের সোনালি আঁশ পাট ও চামড়ার কদর দিনে দিনে এভাবে কমে যাওয়ার কারণ বুঝে আসছে না। চামড়া ও পাটশিল্প বাঁচাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। এটা এখন সময়ের দাবি।