দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সকাল পর্যন্ত ছিলেন একজন অন্তঃসত্ত্বা পরীক্ষার্থী, দুপুরে হয়ে ওঠেন একজন মা—আর তার ঠিক কিছুক্ষণ পরেই আবার পরীক্ষার্থী! সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে কোলে নিয়েই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিলেন মাস্টার্স শিক্ষার্থী হাজেরা খাতুন। সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে সন্তানসহ ফিরে গেলেন নিজের গ্রামে।
এই অদম্য মানসিকতার গল্প এখন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রশংসায় ভাসছেন হাজেরা।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চরবজরা গ্রামের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন (২৭) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সরকারি আলিমুদ্দিন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের পরীক্ষার্থী। গত বুধবার ছিল তার মৌখিক পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে সকালেই স্বামী আবদুর রশিদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে করে হাজেরা পৌঁছান হাতীবান্ধায়। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তেই শুরু হয় তাঁর প্রসববেদনা।
পরিস্থিতি বুঝে কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত ভর্তি করা হয় হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
শুধু এখানেই থেমে থাকেননি হাজেরা। সন্তান জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও মাইক্রোবাসে করে কলেজে ফিরে আসেন তিনি। মানবিক বিবেচনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ মাইক্রোবাসের ভেতরেই তার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে নবজাতক সন্তানসহ গ্রামে ফিরে যান তিনি।
হাজেরা বলেন, "মাস্টার্স শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। পরিবারের পাশে থাকতে চাই, সন্তানদের মানুষ করতে চাই।"
হাজেরার স্বামী আবদুর রশিদ একজন পল্লি প্রাণী চিকিৎসক। তাদের একটি চার বছরের কন্যাসন্তানও রয়েছে। তিনি জানান, “পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রসববেদনা শুরু হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালের সহযোগিতায় নিরাপদ প্রসব এবং পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।”
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আনারুল হক জানান, “হাজেরার স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ। সন্ধ্যায় তাদের হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।”
হাতীবান্ধা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। পরবর্তীতে নবজাতকসহ মাইক্রোবাসে ফিরলে সেখানেই তাঁর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। আমরা সবাই ওনার সংকল্প দেখে মুগ্ধ।”
এফএইচ/