দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনায় আট বছরের সন্তানকে হত্যার দায়ে মো. এরশাদ মিয়াকে (৩৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ মে) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. এরশাদ মিয়া জেলার সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে।
মামলার বরাতে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল হাশেম জানান, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সাততী গ্রামের মতিয়র রহমানের মেয়ে মোছা. আফরোজা আক্তারের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে এরশাদ মিয়ার বিয়ে হয়। এরই মধ্যে তাদের সংসারে দুটি সন্তান হয়। প্রথম সন্তান মো. সাখাওয়াত হোসেন আরাফ (৮)। তবে প্রসবের সময়ই মারা যায় দ্বিতীয় সন্তান। বিয়ের পর থেকেই স্বামী এরশাদ মিয়া স্ত্রী আফরোজাকে প্রায় সময়ই নির্যাতন করতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় চার বছর আগে স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যান আফরোজা। তিনি পাশের কান্দুলিয়া গ্রামে মামা লিটনের বাড়িতে থাকতেন। এ সময়ে এরশাদ স্ত্রী ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর রাখতেন না। আফরোজা মামার বাড়িতে থেকে সেলাই মেশিনে কাজ করে সন্তান নিয়ে জীবিকা চালিয়ে আসছিলেন। এক পর্যায়ে গত ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর স্বামীকে তালাক দেন আফরোজা। তালাক দেওয়ায় এরশাদ মিয়া স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হন। পরে ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি এরশাদ মিয়া কান্দুলিয়া গ্রামে গিয়ে একমাত্র ছেলে সাখাওয়াত হোসেনকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং তাকে হত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এরশাদকে আটক করে। এ ঘটনায় আফরোজা আক্তার ওই দিনই স্বামী এরশাদ মিয়ার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে একই বছরের ১৫ এপ্রিল আসামি এরশাদ মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল হাসেম। এদিকে, আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট পুরবী কুন্ড।
/অ