দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের সখিপুরে ১৯৯২ সালে সংঘটিত ৬ জনের চোখ তুলে ফেলার বিভীষিকাময় ঘটনার আসামিদের খালাস দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
রোববার (১১ মে) বিকেল ৫টায় সখিপুর থানার চরকুমারিয়া ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানায়, ১৯৯২ সালের ১০ ডিসেম্বর রাতে পূর্ব শত্রুতার জেরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে স্থানীয় সালিশ শেষে খাওয়ার টেবিলে বসিয়ে নির্মমভাবে ৬ জনের চোখ তুলে নেওয়া হয়। অভিযুক্তরা হলেন বর্তমান সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজমুল হক নান্টু মালত ও তার সহযোগিরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন- শফিকুল ইসলাম স্বপন, মেস্তাবাহ উদ্দিন মাল, শরীফ সরদার, তোফাজ্জল মাল, শাহীন মাদবর ও জালাল উদ্দীন মাদবর। ঘটনার পরদিন শরীফ সরদারের বড় ভাই নুরুল ইসলাম মোল্লা বাদী হয়ে ৩২ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের বিচার প্রক্রিয়ার পর প্রভাবশালী মহলের চাপে আসামিরা ধাপে ধাপে মামলা থেকে খালাস পেয়ে গেছেন। এতে তারা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
অন্ধ ভুক্তভোগী মেজবাহ উদ্দিন মাল বলেন, সেদিন আমরা কী অপরাধ করেছিলাম? আজমুল হক নান্টু মালত ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার জীবনের আলো কেড়ে নিয়েছে। অথচ আজও আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা চাই এ বিষয়ে নতুন করে তদন্ত হোক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
ভুক্তভোগী মৃত শফিকুল ইসলাম স্বপনের ছেলে জালাল উদ্দিন জুলফিকার অশ্রু সিক্ত কণ্ঠে বলেন, আলোচিত মামলার ৩২ জন আসামি যখন জামিনে মুক্তি পেয়ে গেছে, তখন আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমরা চাই, আইনের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে এমন নৃশংস ঘটনা আর কারও জীবনে না ঘটে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আজমুল হক নান্টু মালত বলেন, ১৯৯২ সালের ১০ ডিসেম্বর রাতে কিছু অস্ত্রধারী সর্বহারার দোসর আমাদের এলাকায় নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালায়। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জনতার সহায়তায় হামলাকারীদের আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে। জনতার প্রতিরোধেই ওই হামলাকারীরা শাস্তি পায়। আমরা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদের এই মামলায় আসামি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ৩২ বছর পর আদালতের রায়ে আমরা এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জামিন পেয়েছি। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট। যদি কেউ এ রায়ে সন্তুষ্ট না হন, তাহলে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে আমাদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরএ