দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে চাঁদাবাজিতে বাঁধা দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীসহ দুইজনকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ মে) বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বরপা এলাকা থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় তারাব পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরজু ভূঁইয়াসহ তার অনুসারীরা।
পরে তাদেরকে বরপা এলাকায় আরজুর অফিসে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায়। সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আহতের পরিবার ও আত্মীয় স্বজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
আহতরা হলেন- রূপগঞ্জের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া ও তারাব পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জুলহাস।
মারধরের শিকার পৌর যুবদল নেতা জুলহাস জানান, পাঁচ আগস্টের পর থেকে তারাব পৌর বিএনপির ৬নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আরজু ভূঁইয়া তার বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি শুরু করে। এছাড়া শ্রমিকদের জিম্মি করে বেতনের টাকা ও মুঠোফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে।
তিনি আরও জানান, আরজুর বাড়ি ৬নং ওয়ার্ডে হলেও সম্প্রতি সে তার বাহিনী নিয়ে ৩নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আরজু বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় লোকজন যুবদল নেতা জুলহাসের কাছে নানান অভিযোগ নিয়ে আসে। এ নিয়ে জুলহাস আরজু এবং তার বাহিনীর লোকজনকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে বললে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে রোববার বিকেলে আরজুসহ তার সঙ্গে থাকা ১৮ থেকে ২০ জন লোক জুলহাস ও সোহেলকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বেপরোয়া মারধর করে।
জুলহাস বলেন, শুরুতে তারা রাস্তায় ফেলে শতশত লোকজনের সামনেই লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের মারধর করে। একপর্যায়ে আরজু ইট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আরজুসহ তার লোকজন আমাদেরকে রাস্তা থেকে টেনে হিচরে তার অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তারা আমাদের হাত পা বেঁধে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকে। পরে স্ত্রীসহ আত্মীয় স্বজন উদ্ধার করতে গেলে হুমকি দিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। তখনও তারা আমার সঙ্গে থাকা সোহেলকে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। আমি ছাড়া পাওয়ার পর স্থানীয়দের ঘটনা জানালে তারা পুলিশে খবর দেয়।
মারধরের শিকার পাইপ ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া জানান, রূপগঞ্জে পাইপ ব্যবসা করায় আরজু আমার কাছে বেশ কয়েকদিন ধরে চাঁদা দাবি করছিল। বিষয়টি জুলহাসকে জানানোর পর সে তাতে বাঁধা দেয় ৷ এর জেরে তারা আমাদের ওপর হামলা করে মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। আরজুর অফিসে পেটানোর সময় পুলিশ আসছে এ খবর পেয়ে তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে অফিসের সাটার লাগিয়ে দেয়।
তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়েছে বলে জানিয়েছে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীসহ দুইজনকে আটকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়েছে। হামলার শিকার আহতরা বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে মামলাসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে তারাব পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আরজু ভূইয়ার মুঠোফোন একাধিক ফোন করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ব্যবসায়ীসহ পৌর যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করার ঘটনায় আরজুসহ যারাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারাব পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আফজাল করিম। তিনি জানান, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পৌর যুবদলের সদস্য জুলহাসকে মারধরের ঘটনা জানতে পারি। এর আগেও আরজুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
আরএ