দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীতে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মাহমুদুল হাসান রিজভীর ছোট ভাই শাহরিয়ার হাসান রিমনকে (১৬) ছুৃরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
রোববার (২৭ এপ্রিল) জেলা শহরের নোয়াখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বালিংটন মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।
রিমন ওই এলাকার মো. জামাল উদ্দিন-ফরিদা ইয়াছমিন দম্পত্তির ছেলে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মাহমুদুল হাসান রিজভীর ছোট ভাই।
রিমনের মা ফরিদা ইয়াছমিন জানান, রিমন স্থানীয় হরিনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। গত দুই দিন আগে রিমনের স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে বাহিরের কয়েকজন ছেলের ঝগড়া হয়। বিষয়টি আমাকে এবং স্কুলের শিক্ষকদের জানায় রিমন। তখন রিমন ঝামেলা সৃষ্টিকারীদের বলে আমি শহীদের ভাই। আমি চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক, আর কোনো ঝামেলা হোক। আমি জানি স্বজন হারানোর বেদনা কি? পরে বিষয়টি রিমন মীমাংসা করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, বাহিরাগত ছেলেরা এ মীমাংসা মানতে পারেনি। তারা রিমনের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়। রোববার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে ওই ছেলেরা রিমনকে পেছন থেকে ডেকে অতর্কিতভাবে পিঠে ও মাথায় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যায়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার করেন।
রিমনের মা আরও জানান, তাকে মোট ৬টি ছুরিকাঘাত করা হয়। তার পিঠের আঘাতগুলো ফুসফুস পর্যন্ত চলে গেছে। হামলাকারীরা প্রথমে মনে করেছিলো রিমন মারা গেছে। যখন জানতে পারে রিমন বেঁচে আছে তখন তারা পুনরায় রিমনের ওপর হামলা করতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যায়। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধে পালিয়ে যায়। রিমনের স্কুলের বন্ধুরা তার ওপর হামলাকারীদের নাম জানে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, একদল কিশোর মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে রিমনকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এতে রিমন গুরুতর আহত হয়। হামলাকারী সবাই কিাশোর।
তারা আরও বলেন, শহরের বালিংটন মোড় কিশোর অপরাধীদের আখড়া। এখান দিয়ে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও হরিণারায়ণপুর স্কুলসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা যাতায়াত করে। প্রায় তারা কিশোর গ্যাংয়ের ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলে না। প্রশাসনেরও নজরদারী নেই।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাজিব আহমেদ চৌধুরী জানান, রিমন নামে এক কিশোরকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎিসা দিয়ে ঢাকায় রেফার করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম জানান, কিশোর গ্যাংয়ের একদল সদস্য তার ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার প্রতিবাদে জেলা শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাতে জেলা শহরে বিক্ষিাভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) রিমনের স্কুলের সামনে মানববন্ধন করা হবে। আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আবু তাহের বলেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। কিশোর গ্যংয়ের সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে।
আরএ