দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ‘অভয়ারণ্য’ পাঠাগারের চার শতাধিক বই লুটের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসময় তারা জাফর ইকবাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন লেখকের প্রায় চার শতাধিক বই লুট করেন। আর এ ঘটনায় পাঠাগার কর্তৃপক্ষ প্রশাসন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার বাঁশহাটি এলাকায় অভয়ারণ্য পাঠাগারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ যুব খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী ওরফে রিশাদ আমীন অভয়ারণ্য পাঠাগার নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন ‘ধনবাড়ীতে নাস্তিক্যবাদের কোনো জায়গা হবে না। এটাই ফাইনাল বক্তব্য আমাদের। নাস্তিক বানানোর এক কারখানার সন্ধান পেয়েছি আমরা। অতিদ্রুত আপনাদের কারখানায় তালা লাগিয়ে ধনবাড়ী ছাড়ুন। অনেকদিন অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে ভণ্ডামি করেছেন আপনারা। আর এই সুযোগ পাচ্ছেন না। কথা ক্লিয়ার।’
তার ফেসবুক পোস্টের দিনই রাত ৮টার দিকে ২০/২৫ জন খেলাফত মজলিসের যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাঁশহাটি এলাকায় অভয়ারণ্য পাঠাগারে হামলা চালায়। এসময় পাঠাগারটির সাধারণ সম্পাদক দূর্জয় চন্দ্র ঘোষ পাঠাগারে উপস্থিত ছিলেন। পরে পাঠাগারে খেলাফত মজলিসের লোকজনের উপস্থিতি দেখে থানার ডিএসবির সদস্য আদনান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় নেতাকর্মীরা তার উপরেও উত্তেজিত হয়। পরে পাঠাগারে থাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ুন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, জাফর ইকবালসহ কয়েকজন লেখকের চার শতাধিক বই রিকশাযোগে নিয়ে যায় খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা। বই লুটের পর আবার ওই নেতা তার ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন ‘জয় বাংলা কর্মসূচি। বি:দ্র: যাদের বোঝা দরকার তারা বুঝতে পারছে।’
অভয়ারণ্য পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক দুর্জয় চন্দ্র ঘোষ বলেন, রাতে ২০-২৫ জন হুজুর পাঠাগারে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। এসময় তারা ভেতরে ঢুকেই বলে ওই সব বই ব্যাগে তুল। এঁনে কোন বই থাকবো না। জাফর ইকবাল নাস্তিক, জাফর ইকবালের সব বই নে। এখান থেকে মানুষ নাস্তিকের বই পড়ে। এসময় একজন বলেন, তোদের এ পাঠাগার থাকবো না। তোদের এখানে জাফর ইকবালের বই থাকবো ক্যা, প্রথম আলোর বই থাকবো ক্যা। এটা ওপর থেকে নির্দেশ আছে ভেঙে দেওয়ার, পুড়িয়ে দেওয়ার। এ বলে বইগুলো সব নিতে থাকে তারা। পরে তারা গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতিতে চার শতাধিক বই লুট করে।
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালেও অভয়ারণ্য পাঠাগারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
অভয়ারণ্য পাঠাগারের সভাপতি সুপ্তি মিত্র বলেন, রাতে তারা পাঠাগারের বই লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা বইগুলো পুড়িয়ে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বইগুলো নিয়ে গেছে। এখনও বইগুলো উদ্ধার হয়নি। তবে জানতে পেরেছি বইগুলো ইউএনও অফিসে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা যুব খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী ওরফে রিশাদ আমীন বলেন, পাঠাগারটির সদস্যরা ইসলামবিদ্বেষী লেখা ফেসবুকে পোস্ট করতো। পাঠাগারে হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবালসহ বিভিন্ন লেখকের বই ছিল, যেগুলোতে নারীদের অধিকার, ইসলামবিদ্বেষী লেখা ছিল। সেইসব বইগুলো নিয়ে ইউএনও অফিসে জমা দিয়েছি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম শহিদুল্লাহ বলেন, হুজুররা পাঠাগারে থাকা হুমায়ুন আহম্মেদ, জাফর ইকবালের বই নিয়ে ইউএনও অফিসে রেখেছে। তাদের দাবি, ওই লেখকরা নাস্তিকবাদী। নাস্তিকদের বই রাখা হয়েছে সেখানে। কতগুলো বই নিয়েছে সেটা জানি না। রোববার ইউএনও কার্যালয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, কিছু লোকজন রাতে পাঠাগার থেকে বই নিয়েছে এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। বইগুলো তারা ইউএনও কার্যালয়ে রেখে গেছে এটা জেনেছি। তবে সেখানে কী পরিমাণ বই রয়েছে সেটা জানি না। দুইপক্ষকেই আসতে বলা হয়েছিল। একপক্ষ আসলেও আরেকপক্ষ উপস্থিত ছিল না। পরে উভয়পক্ষকে রোববার কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে।
/অ