দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তালায় ইউএনও শেখ মো. রাসেল ও এলজিইডি’র উপ সহকারি প্রকৌশলী এম এম মামুন আলম কতৃক কালের কন্ঠের সাংবাদিকের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ মুক্ত সাংবাদিকতার টুটি চেপে ধরা হয়েছে বলে অভিহিত করেছেন।
মানবজমিনের সাংবাদিক বিপ্লব হোসেন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তালা উপজেলার নতুন ভবন নির্মাণে অনিয়মের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত নির্মাণাধীণ কতৃপক্ষ এলজিইডি’র উপ সহকারি প্রকৌশলী এম এম মামুন আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার কাছে থাকা ছাতা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন। এসময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। সাংবাদিক টিপু এসময় নির্মাণাধীন ভবনের পাশে তালা ইউএনও’র কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন এবং বিচার চান। এসময় ইউএনও রাসেল সাংবাদিককে ধমক দেন এবং সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতে বসিয়ে দশ দিনের জেল দেন।
এরই প্রতিবাদে বুধবার (২৩ এপ্রিল) সাতক্ষীরার জেলায় ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রথম আলোর সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি। বক্তব্য রাখেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকনেতা ও দেশ টিভি’র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, চ্যানেল আইয়ের আবুল কালাম আজাদ, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মাধব দত্ত, সময় টিভি’র মমতাজ আহমেদ বাপী, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি’র আবুল কাশেম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের আামিনা বিলকিস ময়না, এখন টিভি’র আহসান রাজিব, মানবজমিন পত্রিকার বিপ্লব হোসেন, ডিবিসি’র বেলাল হোসেন প্রমুখ। সাতক্ষীরার তালায় নতুন উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণে অনিয়মের খবর পেয়ে কালের কন্ঠের সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপুকে প্রথমে এলজিইডি’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী কতৃক বেদম মারপিট ও পরে ইউএনও কতৃক দশদিনের জেল দেয়াকে বেআইনী ও অন্যায় বলে উল্লেখ করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে বৃহস্পতিবার ডিসি অফিসের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রথম আলোর সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় কালের কণ্ঠের সাংবাদিক টিপুকে কারাদণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা। একই সময় তালা উপজেলাতেও অনুরুপ সাংবাদিকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকনেতা শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঠিকাদারের লোক শ্রমিক ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে শাস্তি দিয়ে তিনি (ইউএনও) দুর্নীতিবাজদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তদন্ত ছাড়াই এক পেশে শাস্তি প্রদান করে ইউএনও শেখ রাসেল অনিয়ম করেছেন। ঘটনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে না ঘটলে তিনি শাস্তি দিতে পারেন না বলে উল্লেখ করেন চ্যানেল আইয়ের আবুল কালাম আজাদ (এডভোকেট)।
তালায় ইউএনও শেখ মো. রাসেল ও এলজিইডির উপ সহকারি প্রকৌশলী এম এম মামুন আলম কতৃক কালের কন্ঠের সাংবাদিকের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ মুক্ত সাংবাদিকতার টুটি চেপে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মানবাধিকার সংগঠক মধাব দত্ত।