দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রভাবশালী এক সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে গাড়ি প্রবেশের সুবিধার্থে উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেইট নির্মাণ করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন জানা গেছে, গত ঈদ উল ফিতরের ছুটিতে অফিস বন্ধ থাকাকালীন দীর্ঘদিনের পুরনো সীমানা দেয়াল ভাঙার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক সমালোচনার ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে।
পরবর্তীতে পৌরসভার ঠিকাদার বিএনপি নেতা মজনু রহমান খন্দকার মোবাইল ফোনে জানান, পৌরসভার সড়ক নির্মাণ কাজের মালামাল পরিবহনের জন্য দেয়ালটি সাময়িকভাবে ভাঙা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তা ভাঙা হয়েছে। মেরামত কাজ শেষ হলে পুনরায় দেয়াল করে দেওয়া হবে। কিন্তু ঈদের পর ভাঙা দেয়ালে পকেট গেইট নির্মাণের আবেদন করে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার। মূলত উপজেলা প্রশাসনের নিরাপত্তায় বন্ধ করে দেওয়া গেইট দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের জন্য ভাঙা হয়েছে দেয়াল। এমন মন্তব্য করেন সীমানা প্রাচীরের পূর্ব পাশে বসবাসকারী বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দেয়ালের গলিতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়ি হওয়ায় সরকারি দেয়াল ভাঙা হয়েছে। প্রথমদিকে প্রভাব খাটিয়ে দেয়াল ভাঙলেও পরে সেখানে পকেট গেইট নির্মাণে আবেদন করা হয়।
এর আগে, গত ২০ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক (ডিডিএলজি) বিপিন বিশ্বাস কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ পরিদর্শন করেন।
পকেট গেইটের আবেদনকারী পুনরায় বড় গেইট নির্মাণের আবেদনে রূপান্তর করে এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই গলিতে ফায়ার সার্ভিস কিংবা এ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার তেমন প্রয়োজনীতা নেই। মূলত ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তারের বাড়ির ব্যক্তিগত সড়ক নির্মাণে উপজেলা পরিষদকে অরক্ষিত করতে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একটি পকেট করার খবর পাওয়ার পর সীমানা প্রাচীরের চারদিকে একাধিক গেইট নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বেশকটি আবেদনও করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর।
জানা গেছে, ঈদ উল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের বেশ কজন প্রতিবেশু কোভিড-১৯ এর সময়ে বন্ধ করা গেইটটি খুলে দেওয়ার আবেদন করেন। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি ইস্যু করা হয়। এতে তড়িঘড়ি করে উপজেলা পরিষদ মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে রাতারাতি পকেট গেইট করে দেয়। কিন্তু তা পূর্বের স্থানে না করে ঠিকাদার কর্তৃক ভাঙা অংশেই করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিদর্শনে আসা বিপিন বিশ্বাস পকেট গেইটটি বড় গেইটে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন। এর কারণ হিসেবে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তারের বাড়িতে গাড়ি যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যা ক্ষমতার প্রভাবেই সম্ভব হচ্ছে এমন মন্তব্য অনেকের । গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর ভাঙা গড়া, গেইট নিয়ে রয়েছে নানা সমালোচনা।
তবে প্রভাবিত হয়ে বড় গেইট নির্মিত হলে পূর্বপার্শে চন্দগাতী এলাকায়ও গেইট স্থাপনের দাবি করছেন শতাধিক বসবাসকারী পরিবার। এদিকে উপজেলা কোয়ার্টারে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর যত্রতত্র গেইট নির্মাণ বন্ধে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদুল হক তালুকদার বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় কাজ করে প্রশাসন। পরিষদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের আগেই চতুর্পাশে বেশকটি গেট ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার সার্থে সেগুলো বন্ধ করা হয়। এখন লিখিত দাবি ও কমিশনার কার্যালয়ের লিখিত নির্দেশনায় পকেট গেইট পুন:নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বড় ও ছোট গেইট স্থাপনে একাধিক আবেদন পরেছে। পক্ষে বিপক্ষে মতামত রয়েছে। যাচাই বাছাই করে উপজেলা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে উপজেলা পরিষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পদক্ষেপ গ্রহণে মতামত দিয়েছে উপজেলা কৃষি ও সমবায় কর্মকর্তা সহ পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তার জানান, এটি উপজেলা পরিষদের বিষয়। এর সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। যতটুকু জানি, প্রতিবেশিদের গেইট নির্মাণের দাবির পেক্ষিতে সড়ক ও গেইট হচ্ছে। অহেতুক আমাকে জড়ানো হচ্ছে।
এফএইচ/