দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের নাজিরপুরে চাঁদা চাওয়া ও সরকারি খাস জমি ডিসিয়ার নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মহড়া ও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
ওই বাজারে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ফিল্ম স্টাইলে দেশীয় অস্ত্র মহড়া দিতে থাকেন একটি গ্রুপ। অস্ত্রের ওই মহড়ার নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম জহিরের ছোট ভাই ছাত্রদল নেতা সোহেল শেখ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শেখ মাটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. জহিরুল ইসলাম শেখ ও ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মো. বদিউজ্জামান ভুইয়া গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে যুবদল নেতা মো. বদিউজ্জামান গ্রুপের বদিউজ্জামান (৪০), ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম (২৪), ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. সবুর সরদার (৪৫), মো. মাহবুব ভুইয়া (৬৫), স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মো. আল মামুন সরদার আজমীর (৪২), জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. তাইজুল ইসলাম (৩৩), স্বেচ্ছাসেবক দলের এমাম ভুইয়া (২৫), যুবদলের রুহুল আমীন ভুইয়া (৩৫), ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জহিুরুল ইসলাম শেখ ও পলাশ শেখ (২৮)। আহতরা নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম শেখ বলেন, যুবদল নেতা বদিউজ্জামানের চাচা মাহাবুব ভুইয়া তাকে গালাগালি করেন। এ নিয়ে সংঘর্ষকে কাকে মেরেছে, তা তিনি জানেন না। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম সাফিক বলেন, আমি ঘটনাটি রাতে শুনেছি। এই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী জড়িত রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সিনিয়র নেতাদের অবহিত করবো।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসান খান জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমার জানা মতে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। বিএনপি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অশান্তি সৃষ্টিকারী, মাদক ও দখলদারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমার দলের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অশেষ প্রতীম রায় বলেন, গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় প্রেরণ করা হয়েছে। চারজন হাসপাতালে ভর্তি আছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে।
নাজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরএ