দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আধিপত্য বিস্তারের জেরে নড়াইলের কালিয়ায় ৩০টি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুরুষশূন্য গ্রামটিতে এখন চরম আতঙ্ক দিন কাটাচ্ছেন নারী ও শিশুরা।
শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কোনো বাড়িতে আগুনের ধোয়া এখনও উড়ছে, অনেক বাড়ির সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে ঘরের নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফরিদ মোল্যা (৫৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। হত্যা পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও অর্ধশতাধিক বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযানে সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় উভয় পক্ষের ২০ জনকে আটক করেছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ চেয়ারম্যানের ভাবি মমতাজ বেগম বলেন, অনেক দিন ধরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গতকাল দুই পক্ষের সংঘর্ষ হলে একজন নিহত হয়। ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়ি-ঘর লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
রিভা বেগম নামে অন্য এক নারী জানান, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষরা অগ্নিসংযোগ করেছে। আবারও হুমকি দিচ্ছে রাতে আবার হামলা চালাবে। এখন আমরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত আছি।
কালিয়া থানার ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ফরিদ মোল্যা নামে একজন নিহত হয়েছে। এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ২০ জনকে আটক করেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিকালে মিলন মোল্যা পক্ষের সানোয়ার নামের একজন নড়াইলে আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একা পেয়ে আফতাব মোল্যা পক্ষের লোকেরা মারপিট করে।
এরই জের ধরে শুক্রবার বিকেলে কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মিলন মোল্যা পক্ষের লোকেরা আফতাব মোল্যার বাড়িতে হামলা করে। পরে খবর পেয়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আফতাব মোল্যা পক্ষের আহতরা হলেন- করিম মুন্সি (৪৯), ফরিদ মোল্লা (৫৭), হুসাইন শেখ (১৮), আশরাফ মোল্লা (৫০), বশির মুন্সি (৪৫), করিম মুন্সী (৩৭), জালাল মুন্সি (৪৭)-সহ ৭ জনের নাম জানা গেছে।
অপরিদেক মিলন মোল্যা পক্ষের আহতরা হলেন- তৌহিদ মোল্লা (৫০), আলমিস শেখ (৩৫) নিরব মোল্লা (১২), হাসিব মোল্লা (১৫), কিবরিয়া শেখ (২৮), ওসমান মোল্লা (১৫), কামাল কাজী (৪০), তরিক শেখ (২৪), জাকারিয়া শেখ (২৫), দিদার শেখ (১৮)-সহ ১০ জনের নাম জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে ফরিদ মোল্লা, তৌহিদ মোল্যা, বশির মুন্সির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়াই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থানয় ফরিদ মোল্যা মারা যায়।
আরএ