দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে সিঁধ কেটে চুরি ও ধর্ষণের ঘটনায় হৃদয় হালদার (২৫) নামে এক যুবককে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত হৃদয় হালদার উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কাটাপিটানিয়া গ্রামের রতন হালদারের ছেলে।
সোমবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় এলাকার বিপ্লব মিস্ত্রি বিটুর দোকানের সামনে থেকে স্থানীয়রা ওই অভিযুক্ত হৃদয় হালদারকে আটক করে। পরে সংশ্লিষ্ট এলাকার চৌকিদার দীপেন সরকারের মাধ্যমে থানায় খবর দিলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যান।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, শুক্রবার (২১ মার্চ) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কাটাপিটানিয়া গ্রামে রাত আড়াইটার দিকে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী পরিবারের ঘরে চুরি ও স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। কিন্তু অভিযুক্ত হৃদয় হালদার ওই ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ভয়ে স্থানীয়দের জানালেও থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি বলে জানান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, ঘটনার দিন প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায় তারা। খাবারের সঙ্গে আগেই চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ায় আমার পরিবারের সবাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। এসময় ঘরের পেছনের দিক থেকে সিঁধ কেটে একই গ্রামের হৃদয় হালদার ঘরে ঢুকে আমার স্ত্রীর কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। পরে কুপ্রস্তাব দিলে তিনি রাজি না হওয়ায় মারধর করে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় আমার স্ত্রী ডাক-চিৎকার দিলে স্থানীয়রা আমার স্ত্রীকে নগ্ন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ দীপেন সরকার জানান, লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি এতদিন ধর্ষণের ঘটনাটি চাপিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ঘটনাটি জানাজানি হলে সন্ধ্যায় স্থানীয়রা অভিযুক্তকে ধরে আমাকে খবর দেয়। পরে আমি থানায় খবর দিলে পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।
ইউপি সদস্য মনোজ কুমার ঢালী বলেন, হৃদয় হালদার বখাটে প্রকৃতির লোক। তার দলে একাধিক সদস্য থাকায় এলাকায় নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে যাচ্ছে। স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির ঘটনায় আরও পাঁচ জনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানার ওসি মো. বনি আমিন বলেন, ঘরে সিঁধ কেটে চুরি এবং ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। কিন্তু আজকে অভিযুক্ত হৃদয় হালদারকে স্থানীয়রা ধরে থানায় খবর দিয় পুলিশ পাঠিয়ে তাকে থানায় ধরে আনি। প্রাথমিক পর্যায়ে চুরি ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।
কে