দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে সন্তানদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে মৃত্যুর পর ১৬ঘণ্টা উঠানে পড়ে ছিল বাবার লাশ। বাবার মৃত্যুর পর লাশ দাফনে বাধা দেয় সন্তানরা। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় ১৬ ঘণ্টা পর লাশ দাফন করা হয়।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটাগ্রামে কোটা পুর্বপাড়ার এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের হাবিবুর রহমান হবি বিশ্বাস (৭০) বুধবার (২৬ মার্চ) সকাল ছয়টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরে রাত দশটায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান হবি বিশ্বাস। তারপর বাবার মরদেহ উঠানে রেখে ছেলেরা জমিজমা নিয়ে সালিশে বসে। তার ৪ জন স্ত্রী এবং ৯ জন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তিনি ছোট স্ত্রী ও ছোট সন্তান সোহেল বিশ্বাসের কাছেই থাকতেন। সেই সুবাদে সোহেল বিশ্বাসের মাকে ৮৩ শতক জমি লিখে দেয় সে। যা নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ করা হয়। কিন্তু হবি বিশ্বাস তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
বাবা মারা যাওয়ার খবর শুনে ছেলে আাতাউর, সুমন, আনোয়ার ও হাফিজুর কবর খুঁড়তে ও লাশ দাফনে বাধা দেয়। এভাবেই দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয় তবুও কবর খুঁড়তে দেওয়া হয়নি কাউকে।
একপর্যায়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্যরা সব ছেলেদেরকে নিয়ে বিকেলে সালিশে বসে। পরে ছোট মায়ের নামে থাকা ৮৩ শতক জমির ৫০ শতক জমি সমানভাবে অন্য ছেলেদের লিখে দেওয়ার মুচলেকায় কবর খোঁড়ার অনুমতি মেলে।
ছোট স্ত্রীর ছেলে সোহেল বিশ্বাস বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর পর কবর খুঁড়তে গেলে আমার সৎ ভাইয়েরা বাধা দেয়। পরে সালিশ বৈঠকে ৫০ শতক জমি তাদের নামে আমার মা লিখে দিতে চাইলে, তারা কবর খোঁড়ার অনুমতি দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। আমরা থেকে মীমাংসা করে দিয়েছি। মৃত হাবিবুর রহমান হবিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
চলিশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান বলেন, ৮৩ শতক জমি নিয়ে সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও কতিপয় ব্যক্তি সমস্যার সমাধান করেছেন।
/অ