দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলে মহাসড়কে গণপরিবহন সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে ঘরে ফেরা মানুষজন। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই খোলা ট্রাক ও পিকআপযোগে যেতে হচ্ছে। আর এই সুযোগে চালকরাও বেআইনিভাবে ট্রাকে লোক উঠিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাত ৭টায় এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পরিবহনের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে অনেকেই। একটা বাস পেলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন উঠার জন্য। এই সুযোগে বাসে তিনগুণ ভাড়া বেশি দিয়েও দাঁড়িয়ে যেতে পারছেন না অনেকে। আবার অনেকে শিশু সন্তান নিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে গণপরিবহন না পাওয়ায় খোলা ট্রাক, পিকআপ ও মুরগি পরিবহনের গাড়িতে উঠছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা হতে সিরাজগঞ্জ অংশের কড্ডা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কে বাস ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ছিল ৪০-৫০ টাকা। সেখানে খোলা ট্রাক ও পিকআপে চালকরা নিচ্ছে ২০০ টাকা। এছাড়া উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যেতেও কয়েকগুণ ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের চাপে ফেলে।
এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষারত কামরুজ্জামান বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য পরিবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। পেলেও ভাড়া আকাশচুম্বি। শিশু সন্তান নিয়ে খোলা ট্রাকেও যেতে ভয় করছে। বাস না পেলে বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাকে যেতে হবে।
যাত্রীরা জানান, পুলিশের সামনেই ভাড়া বেশি নিচ্ছে তারা। ঈদের সময় ভাড়া একটু বেশি নিবে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু কয়েকগুণ বেশি নিবে এই অভিযোগ কোথায় দিবো। অভিযোগ করতে যাবো, নাকি পরিবার নিয়ে বাড়ি যাবো।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, জেলা পুলিশের সাড়ে ৭শ’ পুলিশ সদস্য ২৪ ঘণ্টাই মহাসড়কে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও মহাসড়কে যানজটের তৈরি হয়নি। মহাসড়কে তিন চাকা গাড়িগুলো চলাচলে সর্তক করা হচ্ছে। ভাড়তি ভাড়ার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রী স্বস্তি দিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মহাসড়কে ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল টিম কাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও সেনাবাহিনীও কাজ করছে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। কর্মস্থলে ফিরে আসা পর্যন্ত আমরা সর্তক অবস্থানে থাকবো।
আরএ