দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝিনাইদহ জেলা শাখার সদস্য সচিব সাইদুর রহমান ও মুখপাত্র এলমা খাতুনের মদের আড্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাতে ইয়াসির আরাফাত নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিও পোস্ট করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ব্যাগ হাতে মুখপাত্র এলমা খাতুন কক্ষে প্রবেশ করছেন। এরপর ব্যাগটি রেখে খাটের ওপর অবস্থান নেন। তার পাশে শুয়ে ছিলেন সদস্য সচিব সাইদুর রহমান। এরপর সাইদুর একটি কম্বল নিজের শরীরের ওপর বিছিয়ে দেন। আর মুখপাত্র এলমা খাতুন ফোন টিপতে থাকেন। পরে একটি মদভর্তি বোতল হাতে নেন এলমা খাতুন। আরেকটি হাতে কয়েকটি ওয়ান টাইমের গ্লাস দেখা গেছে। ভিডিওটি পাস থেকে কেউ একজন ভিডিও করেছেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই সেই ভিডিও পোস্ট করে বিরূপ মন্তব্য করছেন।
এদিকে ভিডিওটি আপত্তিকর না বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন মুখপাত্র এলমা খাতুন। ইংরেজিতে ‘আরাফিহা নিম্মি (এলমা)’ নামে তার ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন,‘জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে রাতে আমি ও আমার সহযোদ্ধা রত্না, সাজেদুর রহমান, তানাইম, আনিচুর রহমান, আসিফসহ অনেকেই আমার বাড়িতে আশ্রয় নিই। বিষয়টি আমার স্বামীও অবগত। আন্দোলন চলাকালে সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে লড়েছি। এখন ক্ষমতা আর পদ পাওয়ার লোভে ভিডিওটি বিশ্রি ক্যাপশন যুক্ত করে পোস্ট করা হয়েছে।
সবশেষ তিনি লিখেছেন ‘আমার কিছু হলে জায়নামাজের মাঝে এ ঘটনার জন্য দায়ীর হুমকিসহ নাম লেখা থাকবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝিনাইদহ জেলা শাখা সমন্বয়ক আবু হুরাইরা জানান, এই ঘটনার পর ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন এবং তাদের দু’জনের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়াও তাকে ফাঁসানোর জন্য এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন এই সমন্বয়ক।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সদস্য সচিব সাইদুর রহমান ও মুখপাত্র এলমা খাতুনের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১০৩ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্যসচিব আরিফ সোহেল এই কমিটি অনুমোদন করেন। আগামী ছয় মাসের জন্য তারা এই কমিটি অনুমোদন করেন। এই কমিটিতে ঝিনাইদহে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু হুরাইরাকে আহ্বায়ক ও কেসি কলেজের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমানকে সদস্য সচিব ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও সাজেদুর রহমানকে মুখ্য সংগঠক এবং ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী এলমা খাতুনকে মুখপাত্র করা হয়েছে। কমিটিতে ১৩ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৩ জনকে যুগ্ম সদস্য সচিব, ৯ জনকে সংগঠক ও ৬৪ জনকে সদস্য করা হয়।
আরএ