দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোর ৫ (মণিরামপুর) আসনের সাবেক সাংসদ ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য ও তার স্ত্রী তন্দ্রা ভট্টাচার্য্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যশোরের আদালত। সোমবার (১৭ মার্চ) সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। একই দিন, পৃথক আরেকটি আবেদনের প্রেক্ষিতে তন্দ্রা ভট্টাচার্য্যের আয়করের মূল নথি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুলনা কর অঞ্চলের ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্সেস (সার্কেল-৮, যশোর) তার আয়কর সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের দায়িত্ব পেয়েছেন।
২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুদক স্বপন ভট্টাচার্য্য ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়া, ১০টি ব্যাংক হিসাবে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন গোপন করার জন্য রূপান্তর ও স্থানান্তর করেছেন তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, যা দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মামলার তদন্ত চলাকালে দুদক তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
একই দিনে আরও একটি দুর্নীতির মামলায় স্বপন ভট্টাচার্য্য ও তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্বপন ভট্টাচার্য্যের নামে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৭১ হাজার ১৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া, ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ৪১ কোটি ৬৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৪ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করেছে দুদক। দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ গোপন করতে রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই কাজে তাকে সহায়তা করেছেন তার স্ত্রী তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।
দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত স্বপন ভট্টাচার্য্য ও তন্দ্রা ভট্টাচার্য্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পাশাপাশি, তন্দ্রা ভট্টাচার্য্যের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
এফএইচ/