দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর কবিরহাটে মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবাকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। হামলায় আহত বাবার নাম মিজানুর রহমান মিজান (৫৫)। মাথায় অপারেশন করার পর তিনি এখন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
গত শুক্রবার (৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জানগর গ্রামের রায় বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিলন একই বাড়ির মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
অপরদিকে, অভিযুক্ত সঞ্চয় রায় (২৫) একই বাড়ির দেবরাজ রায়ের ছেলে।
হামলার শিকার মিজানের ছোট ভাই ফরিদ অভিযোগ করে বলেন, তার বড় ভাই উপজেলার কবিরহাট বাজারে একটি ইলেকট্রিক দোকান রয়েছে। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি ইলেকট্রনিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার মেয়ে মাইনুর আক্তার মিম (২২) নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। গত ১৫-২০ দিন আগে বিকেলে মিম আমাদের পুরান বাড়ি থেকে নতুন বাড়ি যাওয়ার পথে সঞ্চয় তার গতিরোধ করে টানাটানি শুরু করে। মিম তখন ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। ওই দিন থেকে সঞ্চয় নানাভাবে মিমকে উক্ত্যক্ত করতে থাকে।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, মিমের কাছে পাত্তা না পেয়ে ওই যুবক মিমের চাচাতো বোন স্থানীয় নরোত্তমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুল নাঈমকে নুনকে (১৪) উক্ত্যত শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার ৬ মার্চ রাতে বসতঘরের নুনের শয়ন কক্ষের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলে জানালায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে সঞ্চয়। নুনের দাদুু হালিমা খাতুন (৭৫) বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘরের বাইরে এসে সঞ্জয়কে হাতেনাতে ধরলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। মেয়েদের ইভটিজিংয়ের ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার (৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে আমার বড় ভাই মিজান সঞ্জয়ের ঘরের সামনে গিয়ে তার অপকর্মের বিষয়গুলো তার বাবাকে জানান। এতে সঞ্জয় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে চাইনিজ কুড়াল নিয়ে বের হয়ে এলাপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন মিজানকে। এক পর্যায়ে কুড়ালের কোপে মিলন মাথায় গুরতর আঘাত পায়। ওই সময় বড় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে আমার ওপরও হামলা চালানো হয়। এসময় শৌরচিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবও হামলার শিকার হন। বর্তমানে মিজান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত সঞ্জয় ও তার বাবাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
কবিরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.মন্জুর আহমদ বলেন, এ রকম একটা সংবাদ আমরা পেয়েছি। তবে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএ