দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উচ্চ বেতনে ভালো চাকরি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পাঁচজনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা।
প্রতারণার শিকারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- চর গুজামানিকা গ্রামের হাবিবুর রহমান বাবু, সুলতান মাহমুদ, মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা গ্রামের নজরুলের ছেলে রবিন মিয়া, মমিনের ছেলে রাজু মিয়া ও ছবিলাপুর গ্রামে ওয়াদুদের ছেলে মবিন মিয়া।
এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিস হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পাওনা টাকা ফেরত পেতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীরা মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অবশেষে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের আদ্রা বড় বাড়ি এলাকায় অভিযুক্ত আব্দুল জলিল বাদল মাস্টারের বাড়িতে টাকা ফেরত পেতে সংবাদ সম্মেলন করে।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় ছয় মাসের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের আদ্রা বড় বাড়ি এলাকার মো. আব্দুল জলিল বাদল তার ছেলে রাগিব ইয়াছিন সিনজন ও তার ছেলের বউ রোকেয়া আফরোজ প্রান্তিসহ পাঁচ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা ও ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ টাকা টাকা নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার ঘটনার দুই বছর চলে গেলেও কাউকে তারা দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে যেতে পারেননি। এ ঘটনায় এলাকায় বিভিন্ন সময় শালিশ হয়েছে, এতে কোনো সুরাহা হয়নি। পরে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী যুবক হাবিবুর রহমান বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাগিব ইয়াছিন সিনজন ও তার বাবা আব্দুল জলিল ২০২৩ সালে আমার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে তারা আমাদের কাউকে আর নিয়ে যেতে পারেননি। আমরা খুবই কষ্ট করে টাকা পয়সা দিয়েছিলাম। তবে এখন তারা আর আমদের টাকা ফেরত দিচ্ছে না।
ভুক্তভোগী সুলতান বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা করার জন্য বাবার জমি ও গরু বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলাম। আমাদেরকে বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়েছে। দুই বছর চলে গেলেও এর মধ্যে কাউকে নিয়ে যেতে পারেননি তারা। টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।
ভুক্তভোগী মবিনের মা বলেন, ছেলেকে পড়াশোনা ও ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে সিনজন ও তার বাবার কাছে টাকা দিয়েছি। আমি এখন ঋণের টাকা পরিশোধ না করতে পারায় বাড়ি থেকে চলে আসতে হয়েছে। এখন তারা আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতেও অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে কাউকেই পাওয়া যায়নি এবং মোবাইল ফোনের যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যাই।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।
আরএ