দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাদরাসা থেকে পালানোর অপরাধে মা আসমা বেগম গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা এমনকি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেছেন বাবা কামরুজ্জামান সিকদার। গুরুতর আহত শিশুকন্যা লামিয়া (৯) স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন। পরে দুই সাংবাদিক তাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
বুধবার (৫ মার্চ) বিকেলে বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালতলী শহরের আয়শা সিদ্দিকা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া সকালে শিক্ষকদের না জানিয়ে বাড়ি চলে আসে। দুপুরে মাদরাসার শিক্ষকরা বিষয়টি তার বাবা কামরুজ্জামানকে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পেটান। শিশুটির অভিযোগ, তার মা আসমা বেগমও গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দিয়েছেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং গুরুতর জখম হয়।
শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে সাংবাদিক নাঈম ইসলাম ও শাইরাজ শিশুটিকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা শিশুটির চিকিৎসা ও লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তালতলী থানার ওসিকে শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন দমন আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাংবাদিক নাঈম ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার ইউএনও নিয়েছেন।”
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, “শিশুটির শরীরে দুই জায়গায় গরম খুন্তির ছ্যাকার দাগ রয়েছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
তালতলী থানার ওসি মো. শাহজালাল বলেন, “ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশ অনুযায়ী শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, “শিশুটির চিকিৎসার পাশাপাশি তার নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে। আমরা শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এফএইচ/