দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের আব্দুল হাকিম পিন্টু হত্যা মামলা নতুন মোড় নিচ্ছে। ওই হত্যাকাণ্ডে নিহতের বাবা মো. হুমায়ুন বাদী হয়ে গত ২৪ জানুয়ারি সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু আসামির তালিকা দেখে প্রশ্ন তুলেন স্থানীয়রা। মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তারা অভিযোগ করেন, পিন্টু হত্যার ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো হয়েছে। সাজানো ছকে পিন্টুর ওপর হামলা করা হয়। মত্যু নিয়েও রয়েছে রহস্য।
পরিকল্পিত ও কাল্পনিক এ মামলায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে দুজন জামিনও পেয়েছেন।
তবে ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর নিহতের স্ত্রী পারভিন বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেক মামলার আবেদন করেছেন। আমলী আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২০৫-এর (ঘ) ধারা মোতাবেক প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউপি সদস্য মো. জুয়েল রানাকে। অন্য আসামিরা হলেন, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ওমর আলী, ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, মতিউর রহমান, মানিক আলী, নাজমুল হক গুধা, মো. সুমন, জাহাঙ্গীর আলী, ইসমাইল হোসেন ও মোশাররফ হোসেন মুসা। আসামিরা সবাই চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মামলার এজাহারে পারভিন বেগম বলেছেন, তার শ্বশুর স্থানীয় প্রভাবশালী অপরাধী চক্রের প্ররোচণায় প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের নামে মামলা করেছেন। কিন্তু তার স্বামী চিকিসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হয়ে বলে গেছেন- কারা, কেনো পরস্পর যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জখম করে। এমনকি কে কিভাবে জখম করেছে সেটিও বলে গেছেন তিনি। গত ২ ফেব্রুয়ারি চরবাডাঙ্গা ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী পারভিন দাবি করেছিলেন তার স্বামীর লাশ নিয়ে ব্যবসা হয়েছে।
চরবাগডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু বলেন, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উনাকে এ মামলায় আসামি করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বাভাবিক। তিনি যে আওয়ামী লীগ নেতাকে হারিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়লাভ করেন সেই আওয়ামী লীগ নেতার ইন্ধনে তাকে মিথ্যা মামলা জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান টিপু।
মামলা আরেক আসামি আজিজুল হক গ্রেপ্তারের আগে মানবজমিনকে জানিয়েছিলেন, গেল বছরের ৭ই ডিসেম্বর চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। এরপর থেকে দলের একটি অংশ এবং আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বি ভাবতে শুরু করেন। রাজনৈতিক কারণেই চক্রান্ত করে তাকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী নুরে আলম সিদ্দিকী আসাদ জানান, আব্দুল হাকিম পিন্টু হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্র ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরি করে হত্যায় জড়িত প্রকৃত খুনিদের বাঁচনোর উদ্দেশ্যে ইউপি চেয়রম্যানসহ বেশ কয়েক জনকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে নিহতের স্ত্রী পারভিন বেগম বাদী হয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের নামে বিজ্ঞ আদালতে একটি হত্যা মামলার আবেদন করেন। আমলী আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২০৫-এর (ঘ) ধারা মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
একই ঘটনায় দুই হত্যা মামলার প্রশ্নে আইনজীবী বলেন, আইনে সুযোগ আছে। আইন অনুয়ায়ী বিজ্ঞ আদালত জিআর মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন চাইবেন। যদি সিআর মামলার আসামিরা পুলিশ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত না হয় তাহলে সিআর মামলাটি পূনরায় তদন্তের নির্দেশ দিবেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় আব্দুল হাকিম পিন্টুকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে ২৩ জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এফএইচ/