দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ওরশ আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যে একটি মাজারে হামলার ঘটনার ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা তোরণ ভাঙচুরসহ ওরশ পণ্ড করে দেয়। সোমবার (৩ মার্চ) রাতে মাসকা বাজারসংলগ্ন হযরত শাহ নেওয়াজ ফকির ওরফে ল্যাংটা পাগলার মাজারে স্থানীয় তৌহিদী জনতা লাঠি মিছিল করে এ ঘটনা ঘটায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাসকা বাজারসংলগ্ন স্থানে হযরত শাহ নেওয়াজ ফকির ওরফে ল্যাংটা পাগলার মাজার রয়েছে। ওই মাজারে দীর্ঘদিন ধরে বার্ষিক ওরশ পালন করে আসছেন ল্যাংটা পাগলার ভক্তরা। এবার ৬৪তম বার্ষিক ওরশ পালনের প্রস্তুতি নেয় মাজার কমিটি। তবে পবিত্র রমজান মাস থাকায় আগামী বুধবার শুধুমাত্র মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে মাজার কমিটি। এ উপলক্ষে তোরণ নির্মাণসহ মাজারের আশেপাশে আলোকসজ্জা করা হয়। কিন্তু এরইমধ্যে গত সোমবার রাতে স্থানীয় মসজিদে তারাবি নামাজের পর তৌহিদী জনতা নামের লোকজন হঠাৎ করে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, তারাবি নামাজের পর নারায়ে তাকবির আল্লাহ অকবারসহ বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে হঠাৎ করে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে হামলা চালায়। হামলাকারী মাজারে নির্মাণ করা তোরণ, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার সরঞ্জামাদি ভেঙে ফেলে। এতে ওরশ পণ্ড হয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, মাজারে হামলার খবর পেয়ে এলাকার শত শত ভক্তবৃন্দ সেখানে জড়ো হন। পরে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তৌহিদী জনতার এক সদস্য বলেন, এখানে তারা মাজার করবে, গান-বাজনাসহ নাচানাচি ও মাদকসেবন করবে- এটি আমরা তৌহিদী জনতা করতে দেবো না। আমরা বেশ কয়েকবার তাদের বুঝিয়েছি। এসব হারামকাজ না করার জন্য। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে গেইট, প্যান্ডেল বানানোসহ ওরশের আয়োজন করে। আমাদের দাবি একটাই, এসব বেদাত কাজকর্ম চলবে না। আর মাজার কমিটি আমাদের কথা না মেনে কেনো ওরশ আয়োজন করল তা তৌহিদী জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে আমরা তৌহিদী জনতা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।
মাজার কমিটির সভাপতি আলী উছমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ভক্তরা ওরশ পালন করে আসছেন। এবার রমজান মাস থাকায় আমরা শুধুমাত্র মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে তৌহিদী জনতার নামে লোকজন লাঠি মিছিল করে মাজারে হামলা চালায়। এ সময় ভক্তরা খবর পেয়ে মাজারে আসতে থাকেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগামী বুধবার মাজারের ওরশ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কমিটির লোকজন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
এফএইচ/