দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাছের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুরতা। পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে শত্রুতার জের ধরে তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলামের ৫৪ শতাংশ জমির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রব হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী ওই উদ্যোক্তা।
রোববার (১৬) ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের মধ্য বালিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ওই তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মৃধা একই এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন মোহাম্মদ আলী বরাবর ওই কৃষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসারে সচ্ছলতা আনতে স্বপ্ন নিয়ে কয়েকমাস আগে ৫৪ শতাংশ জমিতে পরিক্ষামূলকভাবে কুমরা, লাউ, শসা ও বেগুন চারা রোপণ করেছিলেন উদ্যোক্তা সাইফুল। প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে গাছগুলোকে উপযোগী করে তোলেন সে। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে ক্ষেতে পানি দিতে যান তিনি। এসময় দেখেন এক হাজার দুইশ’ ৫০টি গাছের গোঁড়া থেকে কাটা রয়েছে।
ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি যুব উন্নয়নে ট্রেনিং নেওয়ার পরে উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা অর্জনের লক্ষে এক বছর চুক্তিতে জমি নিয়েছি। কিন্তু এই জমি আব্দুর রব হাওলাদার গত বছর নিয়েছিল। তবে এ বছর নিতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। কুমরা গাছ ৫ শতটি, শসা গাছ ৩শ’ ৫০টি, বেগুন গাছ ৪শটি। এতে ছোট-বড়ো ফলসহ এসব গাছ কেটে ফেলা হয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান এই উদ্দোক্তা।
অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রব হাওলাদার জানান, সাইফুলের পরিবারের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তার জন্য আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
বালিপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দাখিল করছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইন্দুরকানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএ