দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
উচ্চ আদালতে আপিলে হত্যা মামলায় ২০১৭ সালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পান খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা ইব্রাহিম আলী শেখ সাগর। কিন্তু আদালতের মুক্তির আদেশের কপি ৮ বছরেও কারাগারে না পৌঁছানোয় তাকে বন্দীই থাকতে হয়।
বিষয়টি পরিবারের লোকজন কারা কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে চিঠি দিয়ে তার মুক্তির আদেশের কপি সংগ্রহ করে তা যাচাই শেষে শনিবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ইব্রাহিম আলী শেখ সাগরকে মুক্তি প্রদান করে।
শুধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড নয়, ইব্রাহিম আরও তিনটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। এর মধ্যে একটিতে যাবজ্জীবন, একটিতে ১০ বছর ও আরেকটিতে ৭ বছর সাজা হয়েছিল। এর আগে যাবজ্জীবন সাজার মামলায়ও তিনি খালাস পান। বাকি দুটি মামলায় ইতোমধ্যে সাজার মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। মুক্তিপ্রাপ্ত শেখ সাগর বটিয়াঘাটা উপজেলার আমীরপুর ইউনিয়নের চরহরিণাবাদ এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত সাগরকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পরে মামলাটি উচ্চ আদালতে গেলে ২০১৭ সালে খালাস পান তিনি। কিন্তু কারাগারে তার মুক্তির আদেশ ৮ বছরেও পৌঁছায়নি। কারাগারে রিলিজ অর্ডার (মুক্তির আদেশ) না আসায় তিনি বন্দী ছিলেন। বিষয়টি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (কারা তত্ত্বাবধায়ক) নুরশেদ আহমেদ ভূঁইয়া ও জেলার (কারাধ্যক্ষ) মো. শরিফুল আলমকে অবহিত করেন সাগরের পরিবারের লোকজন। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালত, অ্যাটর্নি জেনারেল, সলিসিটর ও কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। উচ্চ আদালত থেকে ইব্রাহিম আলী শেখ সাগরের মুক্তির আদেশ (রিলিজ অর্ডার) ৬ ফেব্রুয়ারি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছায়। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ মুক্তির আদেশের কপি ও আসামি যাচাই করে নিশ্চিত হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাগরকে মুক্তি দেওয়া হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ শরিফুল আলম বলেন, ইব্রাহিম আলী শেখ সাগর মোট চারটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড, বিস্ফোরক আইনের মামলায় যাবজ্জীবন ও অপর দুটি মামলায় ১০ বছর ও ৭ বছরের সাজা ছিল। ফাঁসি ও যাবজ্জীবন সাজার মামলায় খালাস পান। আর বাকি দুটি মামলায় সাজা ভোগ পূর্ণ হয়েছে। উচ্চ আদালতে যোগাযোগ করে কাগজ পাওয়ার পর যাচাই করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আরএ