দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘদিন ধরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ফ্রিজে সংরক্ষিত আছে ভারতের দুই নাগরিকের লাশ। এতদিনে মরদেহ গুলো সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মরদেহ গুলো সংরক্ষণে খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। যা রাষ্ট্রের টাকার অপচয় বলছে সচেতন মহল। তবে মরদেহ দুটি হস্তান্তরের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস জেলা প্রশাসকের।
জেলা কারাগার ও সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, অনুপ্রবেশের দায়ে ২০২২ সালে ১৮ মে বাবুল সিং ও ৮ অক্টোবর সত্যেন্দ্র কুমারকে পদ্মা সেতু এলাকা প্রকল্প এলাকা থেকে আটক করে পদ্মা দক্ষিণ থানা পুলিশ। পরে তাদের পাঠানো হয় শরীয়তপুর জেলা কারাগারে। গত ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি সত্যেন্দ্র কুমার জেলা কারাগারে মারা যান। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে বাবুল সিং অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় কারা কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবুল সিং। এর পর থেকেই তাদের লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ফ্রিজে রাখা হয়েছে। ওই হাসপাতালে হিমঘর নেই। হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষে ফ্রিজে চারটি লাশ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতে ভারতের দুই নাগরিকের লাশও রাখা হয়েছে। সক্ষমতা কম হওয়ায় ফ্রিজটিতে জেনারেটরের সংযোগ দেওয়া যায়নি। তাই, লোডশেডিংয়ের কারণে লাশে পচন ধরার আশঙ্কা আছে। লাশগুলো দেখভালের জন্য তিনজন কারারক্ষী দিন-রাত পাহারায় থাকেন। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষ ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাওনা প্রায় ১৪ লাখ টাকা। দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দুটি ভারতের হাইকমিশনের মাধ্যমে হস্তান্তর অথবা সৎকারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শরীয়তপুর জেলা কারাগারে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে গত দুই বছরে পদ্মা সেতুর আশপাশ থেকে আটক করা হয় ২২ ভারতীয় নাগরিককে। তাদের মধ্যে দুইজন মারা গেলেও এখনো শরীয়তপুর জেলা কারাগারে রয়েছে চার নারীসহ আরও ১৯ জন। সবাই কারাভোগ শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডোম নুরুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের সময় নষ্ট হয়। ডিউটি থাকলেও অসময়ে এসে দেখতে হয়। পঁচা লাশের সঙ্গে কেউ লাশ রাখতে চায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চারটি লাশ ফ্রিজিং করে রাখার ব্যবস্থা আছে। তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দুই ভারতীয়র লাশ এখানে রাখা হয়েছে। আমাদের দেশের অর্থ ব্যয় করে লাশ দুটো রাখা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়রা লাশ সংরক্ষণের সুবিধা নিতে পারছেন না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, দ্রুত লাশ দুটি সৎকার বা হস্তান্তর করা হোক।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, দুটি লাশ দীর্ঘদিন ধরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আছে। এর জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। এ দুটো লাশ থাকার কারণে অন্যরা এখানে লাশ রাখতে চায় না। জরুরি প্রয়োজন হলেও এখানে লাশ রাখা যায় না। লাশ দুটি রাখার জন্য রুমের ভাড়া দিতে হয়। এ রুমের ভাড়া বহন করে কারা কর্তৃপক্ষ। দেখা গেছে, তাদের বরাদ্দ থাকে না। অনেক সময় ভাড়া বকেয়া পড়ে। লাশ দুটি দ্রুত অপসারণ করলে আমাদের হাসপাতালের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
শরীয়তপুর কারাগারের জেলার আসমা আক্তার পাপিয়া বলেন, একদিকে মরদেহটি দুইটির জন্য প্রতিনিয়ত টাকা গুনতে হচ্ছে কারাগার কর্তৃপক্ষকে। আর অন্যদিকে জনবল সংকটের মধ্যেই সেগুলোর পাহারা দিতে হচ্ছে কারারক্ষীদের। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুরাহার দাবী তার।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, মরদেহ দুটি হস্তান্তর একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিষয়। এটি দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এফএইচ/