দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বেশে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার, বহির্বিভাগ ও ওষুধ সংগ্রহের লাইনে অপেক্ষারত রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (৯ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও চোরচক্রের কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও উদ্বেগে রয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত রোগীর সমাগম ঘটে। টিকিট সংগ্রহ, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও ওষুধ নিতে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর এই ভিড় ও ব্যস্ততার সুযোগ নিয়েই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরচক্র।
ভুক্তভোগী তখলপুর গ্রামের নূর জাহান বেগম বলেন, ‘কিছুদিন আগে ব্যাংক থেকে ১০ হাজার টাকা তুলে ব্যাগে রেখে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে যাই। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাইরে এসে দেখি ব্যাগে টাকা নেই। কখন যে চোরেরা টাকা নিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সামনেই আরেক নারীর কানের অলংকার চুরি হয়। হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের কোনো নিরাপত্তা নেই।’
উপজেলার হোগলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নন্দিতা দাস বলেন, ‘টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার পর ছোট পার্সটি ভ্যানিটি ব্যাগে রেখে দিই। কিছুক্ষণ পর দেখি পার্সসহ ১০ হাজার টাকা নেই। ভিড়ের মধ্যেই কেউ নিয়ে গেছে।’
আরেক ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম বলেন, ‘টিকিট কাটার সময় পেছন থেকে এক বোরকা পরা নারী আমার গলায় হাত দেয়, তখন কিছু বুঝিনি। বাসায় ফিরে দেখি গলার সোনার চেইনটি নেই।’
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ষাটোর্ধ্ব আলমগীর হোসেন বলেন, ‘চোররা মূলত নারী রোগীদের টার্গেট করছে। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
শ্রীপুরবাসীর দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চুরি-ছিনতাই বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি, টিকিট কাউন্টার ও বহির্বিভাগে বিশেষ নজরদারি জোরদার এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি ও সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় আমরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। অনেক চেষ্টা করেও চোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রোগী ও স্বজনদের সতর্ক থাকার জন্য বার বার বলা হচ্ছে। সমন্বিতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কেএম