দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় এডিপি’র প্রকল্প দেখিয়ে ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তার উন্নয়নের নামে প্রকল্প হরিলুট হওয়ায় চলছে ব্যাপক সমালোচনা। বিষয়টি তদন্তে রোববার সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় নেওয়া হয় ৮টি প্রকল্প। এরমধ্যে ইচাইল উচ্চ বিদ্যালয় সংস্কারে ১০ লাখ টাকা, আন্ধারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদরাসা ১০ লাখ টাকা, কাচিচূড়া উচ্চ বিদ্যালয় ১০ লাখ টাকা, ছলেমননেছা এতিমখানা ও দাখিল মাদরাসা ১০ লাখ টাকা, অন্বেষণ উচ্চ বিদ্যালয় ১০ লাখ টাকা, উপজেলা পরিষদের রাস্তা (এইচবিবি) করণ ১০ লাখ টাকা, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির জন্য ১০ লাখ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টার মেরামতে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। চলতি বছরের ১১ জুন প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ, অর্ণব এন্টারপ্রাইজ ও উড়ালাল এন্টারপ্রাইজ এই তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ পান। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টাকা উত্তোলন করলেও করা হয়নি কোনো কাজ।\
ছলেমননেছা এতিমখানা ও মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আসাদুল্লাহ বলেন, এতিমখানা ও মাদরাসার উন্নয়নে যা বরাদ্দ এসেছে তা গত ৮ ডিসেম্বর জানতে পেরেছি। কারণ ৮ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান আমাদেরকে ডেকে বলেছেন মাদরাসার উন্নয়নে তারা চেয়ার টেবিল কিনে দিতে চান। আমাদের নামে নাকি কিছু টাকা বরাদ্দ এসেছে। আমি তখন বলেছি, যা ভালো হয় তাই করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছু পায়নি। এখন শুনছি এসব টাকা নাকি আত্মসাৎ হয়েছে। আজকে দুদুকও এসেছে, যা সত্য তাই বলেছি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রসাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ প্রসাদ বলেন, ৮টি প্রকল্পের মাঝে ৩টি প্রকল্পের কাজ হয়েছে। বাকি প্রকল্পের টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী ফেরত দেওয়ার কথা।
এ নিয়ে কথা বলতে চাননি প্রকল্পের সভাপতি ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী জালাল।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে টাকা উত্তোলন করা হলেও উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাজ না করে গত ৯ ডিসেম্বর সরকারি কোষাগারে ৫০ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ লাখ টাকার বিষয়ে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।
ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারি পরিচালক বুলু মিয়া বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরেজমিন প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করছি। রোববার সকাল থেকে ৬টি প্রকল্প যাচাইকালে আমরা অভিযোগে সত্যতা পেয়েছি। দেখা গেছে যে- কোনো কোনো জায়গায় কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো জায়গায় কাজ এখনও চলমান দেখিয়ে পূর্বেই টাকা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির কাজ এখনও চলমান। অথচ বিল অনেক আগে তুলে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের পিছনে যে এইচবিবি রাস্তাটা রয়েছে আমাদের কাছে দেখে মনে হয়েছে অনেক আগের দু-এক জায়গায় সংস্কার হয়েছে শুধুমাত্র। সংস্কার হওয়া মানেই রাস্তাটা অনেক আগের তার ওপর ঘাস হয়ে গেছে। প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে পায়নি। তিনি সম্প্রতি বদলি হয়ে অন্য জায়গা চলে গেছেন। তার দায়িত্বে বর্তমানে ভূমি কমিশনার রয়েছেন। তার সাথে আমার কথা হয়েছে এবং উপজেলা প্রকৌশলী ময়মনসিংহে অফিসিয়াল কাজে আছেন। আমরা যা পেয়েছি তা কমিশন বরাবর দাখিল করবো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
আরএ