দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারের কয়েক একর জমি ব্যবহার করে নিজের জন্য ধান, সবজি, সরিষা ও মৎস্যচাষ করছেন ময়মনসিংহের ট্রান্সমিশন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো.রকিবুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগে এসব উৎপাদন করছেন তিনি। শুধু তাই নয় সরকারের দেওয়া গাড়ি দেদারসে ব্যবহার করছেন পারিবারিক কাজে। গাছ কেটেও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তার অপসারণ দাবি করেছেন।
সম্প্রতি সরেজমিন ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া ট্রান্সমিশন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আমন ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। পাকা ধান কাটছেন দুইজন শ্রমিক। ধানের এমন ফলন দেখে যে কারও মনে হবে কোনো কৃষিবিদ তা আবাদ করেছেন। কিন্তু তা নয় ৬ একর সরকারি জমিতে ৪৯ ও ৮৭ জাতের এমন ধান আবাদ করেছেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানী ময়মনসিংহ ট্রান্সমিশন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম। শুধু ধান নয় সরিষা, সবজি, কলা আবাদের পাশাপাশি বিশাল আকৃতির দুটি পুকুরে করছেন মাছ চাষ। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগ। উৎপাদিত পণ্যে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে করছেন বিক্রিও। শুধু তাই নয় সন্তানের স্কুল কোচিংয়ে যাতায়াতে নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারী গাড়ি। পরিত্যক্ত বেশকয়েকটি ভবনের দরজা-জানালা ও গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রী শিপু আহমেদ বলেন, একসময় আমি ওই অফিসের ভেতরে লাইন মেরামতের কাজ করেছি। এখন আর করি না। তারা অন্য কাউকে
দিয়ে কাজ করাচ্ছে। ধানের ক্ষেত, সবজি ও পুকুরে যে পানি দেওয়া হয় তা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। তারা সরকারি লোক হয়ে সরকারকে টাকা না দিয়ে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন। শাহিনুল ইসলাম নামে আরও একজন বলেন, একসময় বিটিসিএল কার্যালয়ের গেট খোলা থাকতো। আমরা সহজেই ভেতরে ঢুকতে পারতাম। বিগত কয়েকমাস ধরে গেট বন্ধ করে দারোয়ান রাখা হয়েছে। ভেতরের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা নিজেদের কাজ রেখে ফসল আবাদ করতেই বেশি সময় ব্যয় করছেন। তারা ধান, সবজি, কলা, সরিষা, ফলমূল এবং মাছ বাড়িতে প্রতিনিয়ত সরকারী করে বাড়িতে পাটাচ্ছেন। শুধু তাই নয় রকিবুল স্যার সরকারের দেয়া গাড়িতে গ্রামের বাড়ি জামালপুর যাওয়া-আসার পাশাপাশি নিজের মেয়ের স্কুল কোচিংয়ে ব্যবহার করছেন। এতে সরকারের তেল অপচয় হচ্ছে। আমাদের ঘামের টাকায় এতো বিলাসিতা কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, জামালপুর বাড়ি হওয়ায় স্বৈরশাসকের দোসর মির্জা আজমের প্রভাব খাটিয়ে ঘুরেফিরে চারমেয়াদে প্রায় ৮ বছর ধরে এইকার্যালয়ে কর্মরত থেকে নানা অপকর্ম করছেন প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম।
তার অপসারণ না হলে অফিসটি শৃঙ্খলা ফিরবে না। শ্রমিক ইদ্রিস আলী বলেন, ধান কেটে মাড়াই করে দিতে কাঠাপ্রতি ৬শ টাকা চুক্তি নিয়েছি স্যারের কাছ থেকে। অন্যান্য খেতের থেকে এ ক্ষেতে ফলন ভালো হয়েছে। কাঠাপ্রতি সাড়ে তিন মণ থেকে চার মণ ধান হবে। পরে তারা ধান কি করবে আমাদের কিছু বলেনি।
ট্রান্সমিশন কার্যালয়ের টেকনিশিয়ান শাহজাহান হোসেন বলেন, জমিগুলো অনাবাদী ছিল স্যারের পরামর্শে আমরা চাষাবাদ করছি। ধান মোটামুটি ভালো হয়েছে। স্যারসহ আমরা ৫-৬ জন ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে চাষাবাদ করেছি। ধান, মাছ, সবজিসহ সমান ভাগেই ভাগ করে নেই। তবে অন্যায় কিছু করিনি। গাছ কাটা, পরিত্যক্ত ভবনের দরজা জানালা বিক্রি ও অবৈধ সংযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে ময়মনসিংহ ট্রান্সমিশন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো.রকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারি গাড়ি মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা হয় পারিবারিক কাজে। এখানে সবাই একটি পরিবারের মতো, তাই অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার নিয়মের বাহিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ কোনোভাবেই হাসিল করতে পারেন না। বিষয়টি তদন্তপূর্বক তাঁর অপসারণ দাবি করছি।
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহ উত্তরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ বলেন, বিটিসিএল হচ্ছে আমাদের এসটি গ্রাহক। তারা তাদের সীমানার মধ্যে যেকোন ভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার করতে পারে। তবে কৃষিতে সেচ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিষয় রয়েছে।
এফএইচ