দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী রাসেল মিয়াকে (৩০) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। হত্যায় সহযোগিতার দায়ে দেবর হিমেল মিয়াকে যাবজ্জীবন ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া শাশুড়ি মাজেদা আক্তারকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের সাজা প্রদান করে আদালত।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় প্রদান করেন। এসময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম রায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চরসিংধা গ্রামের আ. হাসিমের ছেলে মো. রাসেল মিয়া, হিমেল মিয়া ও স্ত্রী মাজেদা আক্তার।
নিহত তমালিকা আক্তার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ভাটিপাড়া গ্রামের মো. রহিজ মিয়ার মেয়ে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে রাসেলের সাথে তমালিকার বিয়ে হয়। আসামি রাসেল এর আগের স্ত্রী রোকেয়াকে তালাক দিয়ে তমালিকাকে বিয়ে করে। কিন্তু নতুন বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই রাসেল তার পূর্বের স্ত্রী রোকেয়ার সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করে। এই নিয়ে তমালিকার সাথে রাসেলের তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে রাসেল তাকে মারপিট করে। এ ঘটনায় তমালিকা বাবার বাড়ি চলে যান।
পরে গ্রামের মাতব্বরদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তমালিকাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠান। ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে খাবার খেয়ে তমালিকা ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু পরদিন তার স্বামীর ঘরের বারান্দায় তমালিকার গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ খবর পেয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ সময় তমালিকা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এ ঘটনায় তমালিকার পিতা রহিজ মিয়া বাদী হয়ে ১০ জানুয়ারি বারহাট্টা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন।
আরএ