দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় দায়ী রাষ্ট্র ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে ফেনীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৮ আগস্ট) সকালে ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাপুর রাস্তার মাথায় হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে আমরা ফেনীবাসী ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ত্রাণের বস্তা দিয়ে বানানো বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে উজানের সব বাঁধ ভেঙে দেওয়া, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, দায়ী রাষ্ট্রকে বিচারের মুখোমুখি করা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।
এতে বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট (বিএনসিএ), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), ইউথ ফর ক্লাইমেট জাস্টিজ, প্রয়াস, মিশন গ্রীণ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষজন অংশ নেন। মানববন্ধনে দাবিগুলোর সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন পরিবেশবাদী সংগঠন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ ও রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি)।
বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট (বিএনসিএ) এর আহ্বায়ক ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, এবারের বন্যার মতো এমন ভয়াবহ চিত্র বিগত ১০০ বছরে ফেনী জেলার ইতিহাসে দেখা যায়নি। সরকারি হিসেব অনুযায়ী চলমান বন্যায় দেশের ১১টি জেলায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যার প্রকৃত সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধুমাত্র ফেনী জেলার এই ভয়াবহ বন্যায় ৬টি উপজেলা পানিতে তলিয়ে ৬৪ হাজার ১৬১টি গবাদিপশু ও ২৩ লাখ চার হাজার ৪১০টি হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৩৯১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলজিইডির তথ্যমতে, এই বন্যায় প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ হাজার ৫৪২ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১ হাজার ৬৬টি ব্রিজ-কালভার্ট।
আন্তর্জাতিক পানি আইন অনুযায়ী, উজানের দেশ ড্যামের ইমার্জেন্সি গেট খোলা অথবা ড্যাম ভেঙে গেলে সেই তথ্য অবশ্যই ভাটির দেশকে জানিয়ে দেবে, যাতে ভাটির দেশ বন্যার পূর্বাভাস দিতে পারে এবং বন্যার্ত অঞ্চল থেকে লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নিতে পারে, এবার এর ব্যত্যয় হয়েছে, যার দায় ভারতের। একটি গণবিপ্লবের পর যখন একটি নবীন সরকার দেশ পুনর্গঠনে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তখন এই অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যা প্রমাণ করে এটি একটি রাজনৈতিক বন্যা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ নদী কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা, অসতর্কতা ও সার্বিক অব্যবস্থাপনাও এই বন্যার জন্য দায়ী। ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এখনো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি, এটি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে নদীগুলোর নাব্যতা নষ্ট হয়ে গেছে, পাশাপাশি নদী গুলোর গভীরতাও কমে গেছে এবং দখল দূষণের ফলে নদীর পাড় সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে ফলে অতিবৃষ্টি বা উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি নদী ধারণ করতে পারে না ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধন থেকে উজানের বিভিন্ন নদীতে থাকা বাঁধ ভেঙে দেওয়া, এই অন্যায় আচরণের জন্য দায়ী সকলকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা, দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে বন্যা দুর্গত প্রত্যেককে সেই ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করণ এবং জলবায়ুর ন্যায্যতা নিশ্চিতের দাবিও জানান তিনি। ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ কনভেনশনে বাংলাদেশ ভোট দিলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে এখনও অনুস্বাক্ষর করেনি। ফলে পানি নিয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনী প্রতিকার পাওয়া কঠিন। অতিসত্বর বাংলাদেশকে অনুস্বাক্ষর করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি ইউথ ফর ক্লাইমেট জাস্টিজের ইভেন্ট এন্ড প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর এস জেড অপু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ফেনী কমিটির সদস্য নূর হোসেনসহ স্থানীয়া উপস্থিত ছিলেন।
আরএ