দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গত ৪ আগস্ট নিখোঁজ হন ময়মনসিংহের গফরগাঁও চরআলগী ইউনিয়নের চর কামারিয়া গ্রামের মো. কামরুজ্জামান (৩০)। এ ঘটনার ১৬দিন পর গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার গুলিবিদ্ধ লাশের সন্ধান পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে স্বজনরা।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে গফরগাঁও উপজেলার চর কামারিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কামরুজ্জামান চর কামারিায়া গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় ছেলে। কামরুজ্জামানের স্ত্রী শামীরা জাহান পপি বলেন, ‘আমার স্বামী ঢাকার উত্তরাতে ভাড়ায় প্রাইভেট গাড়ি চালাত। তবে কিছুদিন আগে তিনি পোল্যান্ড যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। এরই মাঝে দেশে আন্দোলন শুরু হলে গত ৪ আগস্ট তিনি উত্তরায় ছাত্রদের সাথে মিছিলে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর অনেক খোঁজাখুজি করেও আমরা তার সন্ধান পাইনি। সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট তার লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে জানতে পারি।’
এর আগে গত ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে হাসপাতাল মর্গে অজ্ঞাত হিসেবে তার মৃতদেহ পড়ে ছিল।
স্থানীয় শহীদুল ইসলাম জানান, প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন কামরুজ্জামান। বাবা থাকেন সৌদিতে, বড় ভাই থাকেন বেলজিয়ামে। এ কারণে সেও ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে ড্রাইভিং করার পাশাপাশি পোল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
কামরুজ্জামানের শ্যালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মর্গে পড়ে থাকা মৃতদেহের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের পর পুলিশ আমাদের খবর পাঠায়। পরে মর্গে গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করে বাড়ি নিয়ে এসেছি। এ সময় মৃতদেহের মাথা ও শরীরে ৮টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করে লাশ দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কামরুজ্জামান কোনো দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না।
এই বিষয়ে চর কামারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিক বলেন, ঢাকা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তা আমার কাছে ফোন করে কামরুজ্জামানের ছবি পাঠায়। ওই ছবি দেখে চিনতে পেরে আমি কামরুজ্জামানের পরিবারকে জানালে তারা মৃতদেহ শনাক্ত করে বাড়িতে এনে দাফন করেছে।
অ