দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টিতে সাতক্ষীরার মৎস্য সম্পদ ও কৃষি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে সাধারণ চাষিরা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
দেশের সর্ব দক্ষিণের দুর্যোগ কবলিত উপজেলা শ্যামনগরের কলবাড়ি গ্রামের চিংড়ি চাষি ও মুরগির খামারি আলতাফ হোসেন মিঠু তার ভেঙে যাওয়া মুরগির খামারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় রিমালের প্রথম রাত রোববারে ঝড় বাতাসের প্রবল চাপে ভেঙে যায় খামারসহ তার দুটি ঘর। সেখানে থাকা দুই শতাধিক লেয়ার মুরগি মারা যায়। যা ছিল তার আয়ের অন্যতম উৎস্য। এই ক্ষতিতে তিনি হয়ে পড়েছেন হতাশাগ্রস্থ।
একই চিত্র রয়েছে আরও অন্যান্য জায়গায়। তবে প্রাণিসম্পদের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি কত তা গণমাধ্যমকে জানাননি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। সারাদিনই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের লিখিত বার্তায় তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল এবং অতিবৃষ্টিতে ৬০৪ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ২০০ হেক্টর মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১৯২টি। সম্পূর্ণ ঘরবাড়ি ভেঙেছে ২৭৬টি।
প্রসঙ্গত, রিমালের প্রথম রাতেই আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে পড়ে গিয়ে স্ট্রোকজনিত কারণে বয়োবৃদ্ধ এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।
জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির আরও জানান, এটি প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা। ঝড়-বৃষ্টি থেমে গেলে সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারলে এর চিত্র আরও বেশি হতে পারে।
এদিকে, শ্যামনগরের রাজনীতিবিদ স ম আব্দুস সাত্তার জানান, শ্যামনগর এবং আশাশুনির সাধারণ মানুষ দুর্যোগে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত। এই অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ রাখতে টেকসই বেড়িবাঁধের কোনো বিকল্প নেই। রিমালে যে ক্ষতির শিকার সাধারণ চাষিরা হয়েছে তাতে কিন্তু দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ না থাকার ফলে এই চাষিরা সরকারের যথাযথ সহায়তার তালিকাভুক্ত নাও হতে পারে। কিন্তু সঠিকভাবে এগুলো নিরূপণ করলে চাষিরা উপকৃত হবে।
আরএ