দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তার একান্ত সচিব ফখরুল মজিদ মাহমুদ কিরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খান।
বুধবার (৮ মে) দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তিনি ।
লিখিত অভিযোগে সুলতান হোসেন খান বলেন,আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অবাধ নিরপেক্ষ ও দলিয় প্রভাব মুক্ত এবং প্রতীকবিহীন হবে। সেই আলোকে আমরা সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ প্রভাব মুক্ত থেকে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আমাদের ঝালকাঠি ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আমির হোসেন আমু এবং তার ভায়রা ফখরুল মজিদ মাহমুদ কিরন প্রকাশ্যে একজন জনশূন্য প্রার্থীর হয়ে নিজে প্রচারনা চালাচ্ছেন এবং ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্চাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ সহ সকল সহযোগি সংগঠনকে জোড়পূর্বক তার পছন্দের প্রার্থী আরিফ খানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে বাধ্য করছেন।
ইতিমধ্যে দলীয় অনেক নেতা কর্মীকে বহিস্কার করা হয়েছে যাহা সম্পূর্ণ দলিয় গঠনতন্ত্র বর্হিভূত। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের যারা তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে না অনৈতিক ভাবে তাহার ব্যক্তিগত ক্যাডারদের দ্বারা প্রাণ নাশের হুমকিসহ বাড়ী ঘর দখলের মাধ্যমে এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
যার ফলে অনেক নেতা কর্মী এখন আতংকে মুখ খুলতে পারছেন না। পাশাপাশি এম পি জনাব আমির হোসেন আমু সাহেরে ভায়রা ফখরুল মজিদ মাহমুদ কিরন (মাননীয় শিল্প মন্ত্রীর একান্ত সচিব) কিরন বলছে তাদের প্রার্থীকে ভোট না দিলে এবং তাহার পক্ষে কাজ না করিলে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত জনগনকে সরকারি সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে বলে প্রচার করে যাচ্ছেন।
এর ফলে জনগনের কাছে আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি এবং নির্বাচন কমিশনের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে যা একজন আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে আমি অস্বস্তি বোধ করছি।
তিনি আরও বলেন,ঝালকাঠি সদর উপজেলার সাধারণ জনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা মানবতার জননীর প্রতি আস্থাশীল। তাই মাননীয় দেশরত্ন শেখ হাসিনার আশ্বাস অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের ঘোষনায় আনন্দিত হয়ে মুক্ত স্বাধীন ভাবে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল। ঠিক তখনই মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আমির হোসেন আমুর অনুসারিরা নির্লজ্জভাবে ঘোষনা করেন ঝালকাঠিতে শেখ হাসিনা এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম চলবে না এখানে আমির হোসেন আমু সাহেব যা বলবেন, যে নিয়ম করবেন সেটাই চলবে।
তিনি যার পক্ষে নির্বাচন করতে বলবেন তার নির্বাচন করতে হবে অন্যথায় সকলকে বাধ্য করা হবে। আমি সুলতান হোসেন খান (দোয়াত কলম প্রতীক) সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঝালকাঠি জেলা শাখা ও সাবেক চেয়ারম্যান ঝালকাঠি সদর জীবন থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ছাত্র লীগ এর রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম।
এরপর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে স্বক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহন করেছি। ১৯৯১ সালে কারচুপি নির্বাচনের পর স্বৈরাচারিনী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গনতন্ত্রের অগ্নিকন্যা জননেত্রী হাসিনার ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের আন্দেলনে নিরালস ভাবে কাজ করেছি।
এর পর ২০০১ সালের নীল নকশার নির্বাচনের পর বিএনপি জামাত জোট সরকার যখন সংখ্যা লঘু নির্যাতনে মেতে উঠেছিল তখন আমি আমার এলাকার সংখ্যা লঘু জনগোষ্ঠির পাশে দাড়িয়ে তাদের রক্ষা করার প্রানপন চেষ্টা করেছি। ২০০১ সালের পরে বিএনপি জামাত জোট সরকার যখন ঝালকাঠি আওয়ামীর লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা কর্মীরা বিএনপি জামাত জোট সরকারের দেয়া মিথ্যা মামলায় জর্জরিত, মুজিব আদর্শের কর্মীরা যখন ছন্নছাড়া হতাশাগ্রস্থ তখন আমি নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে দলকে পুনঃগঠনের কাজ করেছি। দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে আনিত মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত করার জন্য আইনি লড়াই করেছি।
আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঝালকাঠি জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় দলিয় শৃংখলা মেনে শততার সহিত দায়িত্ব পালন করেছি।
কিন্তু আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব আমির হোসেন আমু অনৈতিক কাজের স্বীকৃতি না দেওয়ায় তাহার আস্থা ভাজন হতে পারি নাই। আসন্ন উপজলো নির্বাচনে প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জন নেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন উঠিয়ে দিয়ে উন্মুক্ত নির্বাচনের ঘোষনা দেওয়ার ঝালকাঠি সদর উপজেলার সর্বস্থারের জনগনের অনুরোধ আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু এবং তার ভায়রা কিরন প্রতিনিয়ত আমার কর্মীদের ডেকে হুমকি দিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতে আমি এবং আমার কর্মীরা জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে একটা অনিশ্চয়তার মাধ্যে দিনযাপন করছি । সংসদ সদস্য আমি হোসেন আমু এবং শিল্পমন্ত্রীর এপি এস কিরনের নির্দেশে বর্তমান ঝালকাঠি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান সাইফুল্লাহ পনির জেলা পরিষদের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে প্রচারনা চালাচ্ছেন।
বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আমির হোসেন আমুর মনোনীত প্রার্থী খান আরিফুর রহমান (আনারস প্রতীক) নিজেও সরকারী গাড়ী ব্যবহার করছেন। আমির হোসেন আমু এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে (যে সব দলীয় নেতা কর্মী আমার পক্ষে কাজ করছে) তাদের বহিস্কার করা হচ্ছে এবং জীবন নাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে যা সুষ্ঠ নির্বাচনের অন্তরায়।
এমতাবস্থায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার ২১ মে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব আমির হোসেন আমু এবং তার ভায়রা ভাই ফখরুল মজিদ কিরন (বহিরাগত), আওয়ামীলীগ ও সকল সহযোগী সগঠনের অনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে আমাদের রক্ষা করে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, প্রভাবমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি করছি।
এম