দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুর আন্ত:জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি এলিম পাহাড়ের বিরুদ্ধে সদর হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ মে) দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই চিকিৎসক হলেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হাবিবুর রহমান ও মেডিকেল অফিসার শাহরিয়ার ইয়াছিন।
এদের মধ্যে শাহরিয়ার ইয়াছিনকে মারধর করা হয়েছে। আর হাবিবুর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে টানাহ্যাচরা করে গালিগালাজ করা হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর পৌরসভার বালুচরা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শরীয়তপুর আন্ত:জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি এলমি পাহাড়।
শনিবার একটি মারামারির ঘটনায় তার কিশোর পুত্র মাথায় আঘাত পায়। তাকে নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে আসেন কয়েকজন। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন এলিম পাহাড়। জরুরি বিভাগে ওই কিশোরের চিকিৎসা চলছিল। দ্রুত কেন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না এমন কথা বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের গালমন্দ করতে থাকেন এলিম পাহাড়। তখন জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত নারী চিকিৎসক লিমিয়া সাদিনাকে গালমন্দ করলে সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক শাহরিয়ার ইয়াছিন এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তখন তার শার্টের কলার ধরে তাকে মারধর করা হয়।
এ সময় ওই চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ করে ফেলে দেওয়া হয়। এমন ঘটনা শুনে জরুরি বিভাগে ছুটে যান সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হাবিবুর রহমান। তখন তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। টানাহ্যাচরা করা হয়। তাকেও গালাগালি করা হয়। পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হলে পালং মডেল থানার ওসি মেজবাহ্ উদ্দিন আহম্মেদ হাসপাতালে যান। ততক্ষণে এলিম পাহাড় ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
আর চিকিৎসকরা এলিম পাহাড়ের কিশোর পুত্রকে আন্ত:বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।
হামলার শিকার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শাহরিয়ার ইয়াছিন বলেন, আজকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছিলেন ডাক্তার লিমিয়া। যে রোগীটা আসছে রোগীটাকে কিন্তু ডক্টর লিমিয়া আপা একবার দেখেছেন। দেখার পরে ড্রেসিং করার জন্য হ্যান্ড গ্লাভস পড়তে ছিলেন। আর তখনই আমি পাশে আমাদের চিকিৎসকদের কক্ষে কিছু প্রশাসনিক কাজ করতেছিলাম। এর মধ্যে এলিম পাহাড় এসে লিমিয়া আপার উপরে চড়াও হয় এবং আজেবাজে কথা বলে গালিগালাজ করেন। তখন আমি প্রতিবাদ করলে এলিম পাহাড় আমার গলা চেপে ধরেন আমাকে কিল ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন। আমার গলার অবস্থা ভালো না ভালোভাবে কথা বলতেও পারছি না। আমরা পরিবারের সকলকে ছেড়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকি। তারপরও এমন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করলো। এই ঘটনার আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যেন আর কোনো ডাক্তারের সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের এক চিকিৎসককে রোগীর স্বজনরা মারধর করছেন। এমন খবরে আমি জরুরি বিভাগে গেলে ওই রোগীর স্বজন আমার উপরে চড়াও হয়েও আমাকে টানা হেঁচড়া করেন। এখন বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। আমাদের সকলের সঙ্গে কথা বলে আইনগত পদক্ষেপ নেব।
এ ব্যাপারে এলিম পাহাড়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি মেজবাহ্ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার তথ্য পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। সেখান থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এখন ভুক্তভোগী চিকিৎসকরা লিখিত অভিযোগ করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেবি