দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী ২৯ মে তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই উপজেলায় দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন আপন ভাগ্নে মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু।
বৃহস্পতিবার (২ মে) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের তালিকাতে প্রথমেই শাহদাত হোসেনের নাম রয়েছে। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের তালিকায় মাহবুবুর রশীদ মঞ্জুর নাম রয়েছে ৩ নম্বরে। মন্ত্রীর ছোট ভাই ছাড়াও এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আরও তিনজন প্রর্থীর নাম রয়েছে। তারা হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওমর আলী ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুল।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু ছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন মামুন হোসেন ও মো. জসিম উদ্দিন। তারা দুজনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই ও ভাগনে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখে তো আমরা কিছু শুনতে পাই নাই। আমার প্রশ্ন কিছু কিছু জায়গায়তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় অনেকে হয়ে গেছে, তাদেরকে কি করবে? এখন প্রধানমন্ত্রী যদি বলে মনোনয়ন উঠিয়ে নিতে, তাহলে আমিও উঠিয়ে নেব। আমার আরেকটা প্রশ্ন অন্যরা করতে পারলে আমি কেন করতে পারবনা।প্রধানমন্ত্রী বললে অবশ্যই আমি ছাড় দেব। প্রধানমন্ত্রী মুখেতো আমি শুননি নাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর বাইরে নাই। যেহেতু আমার ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,উনার বাইরেও আমি যেতে পারবনা। অন্য প্রার্থী থাকতে পারে, আমার থাকতে পারাটা কি অনুচিত হবে? অন্যরা করতে পারলে আমিও করতে পারবো। অন্যরা না করলে আমিও করবনা। আমি গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল করেছি। কোম্পানীগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ আমাকে খুবই ভালোবাসে। প্রতিটা ঘরে আমি ছাড়া কিছু নাই।
শাহাদাত তার আরেক ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল কাদের মির্জার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কথা আছে, কোনো মেয়র, এমপি ও মন্ত্রী নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব করতে পারবেনা। উনি কিভাবে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী পক্ষে যায়? জনগণও এর জবাব দিবে? উনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের বাধ্য করে একজন প্রার্থী পক্ষে নামাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন দলের কোনো প্রভাব বিস্তার করা যাবেনা এই নির্বাচনে। প্রধানমন্ত্রীর কথাকে উপেক্ষা করে তারা জবর দোস্তি করছে উপজেলার সকল জায়গায়। আমি মন্ত্রীর ভাই হিসেবে না, আমাকে জনগণ চাচ্ছে প্রার্থী হিসেবে। আমি নিরীহ মানুষ।
তিনি আরো বলেন, যার ভোট নাই এই উপজেলায়, তাকে এখানে হিরো বানাতে চায়। টাকার কাছে তারা বিক্রি হয়ে গেছে। কিছু লোককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করছে। আমার কাছে টাকা নাই, জনগণ আছে সর্বপরি আল্লাহ আছে। আগামী ২৯ মে পর্যন্ত সবাই থাকলে আমিও থাকব। ইনশআল্লাহ জয় আমার সুনিাশ্চত।
আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান বাদল বলেন, আমি গত ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত এই উপজেলায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পরপর তিনবার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হয়েছি। গতবার আমার অভিভাবক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। এবার আবার প্রার্থী হয়েছি। কিন্তু প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগেই আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে আমার পক্ষে কাজ না করার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কতটুকু হবে তা প্রশ্নবিদ্ধ।
অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী পিপুল চৌধুরীর ব্যাক্তিগত মোবইলে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
এফএইচ