দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গত কয়েক দিনের তীব্র দাবদাহে পটুয়াখালীতে জনজীবন হয়ে উঠেছে বিপর্যস্ত। তার ওপর আবার ঘন ঘন লোডশেডিং। ফলে গরমে হাঁসফাঁস করছেন জেলার কর্মব্যস্ত মানুষ। অতিষ্ঠ গরম নিবারণের জন্য তাই শহরে বেড়েছে হাতপাখা কেনার ধুম।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের নিউমার্কেট বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে হাতপাখা বিক্রি করতে দেখা যায়।
প্রতি হাতপাখা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করছে। গত বছর এই পাখা ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হতো।
এ সময় নানা বয়সের নারী-পরুষদের ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় হাত পাখা কিনতে দেখা যায়।
জানা গেছে, কেওয়া পাতা দিয়ে এক বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি এই হাতপাখা গ্রামীণ জনজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈদ্যুতিক পাখার বিকল্প হিসেবে তালপাখার জুরি নেই সুদীর্ঘকাল থেকে। কেওয়াপাতা কেটে রোদে শুকিয়ে বাঁশের শলা ও সুতা দিয়ে এক বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এই হাতপাখা।
পাখা বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, আমি কাজের ফাঁকে গরমের সিজনে তিন বছর ধরে হাতপাখা বিক্রি করছি। গত কয়েক বছরের চেয়ে এই বছর অনেক বেশি পাখা বিক্রি হয়েছে। এতে আর্থিক বেশ লাভ হয়েছে।
শহরের নতুন বাজারের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম জানান, দিন-রাতের বেলায় বিদ্যুতের লোড সেডিং হওয়ার কারণে আমরা ছেলে-মেয়ে নিয়ে রাতে ও দিনের বেলায় ঘরের ভেতরে থাকতে পারি না। তাই ফ্যানের বিকল্প হিসেবে আমরা নিরুপায় হয়ে হাত পাখা কিনছি।
ব্যবসায়ী আরিফ জানান, বৈদ্যুতিক পাখার বিকল্প হিসেবে হাতপাখা ব্যবহার করেন তারা। পাশাপাশি ২০ টাকার পাখা ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় সুলভমূল্যে পাখা কেনা অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
সদর রোডের বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, লোডশেডিংয়ের এই বিরূপ পরিবেশ শীতল করতে হাতপাখার জুড়ি নেই। তাই এই গরমে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশু, রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সুলভ বা বিনামূল্যে জনপ্রতি একটি করে হাতপাখা ও খাবার স্যালাইন দেওয়ার আহ্বান জানাই।
অপরদিকে আবহাওয়া অফিস সারাদেশের তাপমাত্রা কমার বিষয়ে এখনও কোনো ধরনের সুখবর দিতে পারনি। ইতোমধ্যই সরকার সারাদেশে ২৫ মার্চ থেকে আগামী ২ মে পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
জেবি