দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আর ক’দিন পরই ঈদুল ফিতর। সবাই ব্যস্ত কেনাকাটা নিয়ে। পরিবারের সবাই অপেক্ষা করছে সেই দিনটির জন্য। আর ছালেহ আহমেদ ও আনোয়ারুল হক রাজুর পরিবার অপেক্ষায় আছে কখন তারা জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে সকলের কাছে ফিরে আসবে।
অন্যান্যবারের ঈদগুলো মহাখুশির থাকলেও এবার ঈদ তাদের কাছে নিরব কান্নার। সেইসঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছেন শঙ্কা ও প্রতীক্ষা। পরিবারের উপার্জনশীল প্রিয় ব্যক্তিদের বন্দিদশায় ভারত মহাসাগরে তলিয়ে গেছে তাদের ঈদ আনন্দ।
বলছি সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর দুই নাবিক ছালেহ আহমেদ (৪৩) ও আনোয়ারুল হক রাজুর (২৭) পরিবারের কথা। তাদের পরিবারে নেই ঈদের আমেজ।
গত ১২ মার্চ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে ২৩জন নাবিকসহ অপহরণ করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। ২৩ নাবিকের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালীর এই দুই ব্যক্তি।
সম্প্রতি কথা হয় জিম্মি নাবিক ছালেহ আহমেদ ও আনোয়ারুল হক রাজুর পরিবারের সঙ্গে। উভয় পরিবার জানায় পরিবারে নেই ঈদের আমেজ। ঈদকে সামনে রেখে তাদের পরিবারে হচ্ছে না কোনো ধরনের কেনাকাটা। নেই ভালো কিছুর প্রস্তুতিও। দিন যতো যাচ্ছে ততোই তাদের শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। যোগাযোগ না থাকায় তাদের অবস্থাও জানতে পারছে না পরিবারগুলো। দুই জিম্মির পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঈদুল ফিতরের আগে ২৩ নাবিকের মুক্তির আকুতি জানান।
দস্যুদের হাতে জিম্মি ছালেহ আহমেদ নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সিংবাহুড়া গ্রামের মৃত সাখাওয়াত উল্যাহর ছেলে। পরিবারের চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। জাহাজের ফাইটার পদে কর্মরত ছালেহ।
স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ছালেহ আহমদের পরিবার। সঙ্গে রয়েছেন মা, ভাই, বোন। তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছালেহ আহমদ গত বছর ঈদ করেছেন কর্মস্থলে। পরিবারের আশা ছিল এবার তাদের সঙ্গে ঈদ করবেন। কিন্তু জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার খবরে এলামেলো হয়ে যায় ছালেহ আহমদের পরিবারের স্বাভাবিক জীবন।
তিন মেয়েকে নিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার। যেন তারা বেঁচে থেকেও মৃত। তানিয়া ছোট ছোট তিন মেয়েকে নিয়ে ভয় ও ভীতির সঙ্গে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন স্বামীর জন্য। একেবারে নিকট আত্মীয় ছাড়া কারো সঙ্গে কথা বলছেন না তিনি।
ছালেহ আহমদের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, এখন নিজেরা নিজেদের সান্তনা দিতে চেষ্টা করছি এই ভেবে যে এখনও সময় আছে স্বামী ফিরবে। সরকার ২৩ জন নাবিককে ঈদের আগে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনবে এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
জলদস্যুদের হাতে অপর জিম্মি আনোয়ারুল হক রাজু নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের আজিজুল হক মাস্টারের ছেলে।
রাজুর বাবা আজিজুল হক মাস্টার বলেন, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রাজু সবার ছোট। গত নভেম্বরের শেষ দিকে রাজু সিঙ্গাপুর থেকে জাহাজে ওঠে। এরপর ছেলের বন্দিদশায় বদলে গেছে পরিবারের চিত্র। রাজু এবার বাড়িতে এসে ঈদ করার কথা ছিল। ঈদের আগেই যেন আমার সন্তানসহ বন্দি সকল নাবিকের মুক্তির ব্যবস্থা করে সরকার।
রাজুর মা দৌলত আরা বেগম বলেন, খুবই কষ্টে দিন অতিবাহিত করছি। ছেলে জিম্মি। এ অবস্থায় কোনো মা কী ভালো থাকতে পারে। ছেলে ছাড়া আমাদের ঈদ আনন্দ নেই। প্রধানমন্ত্রী ঈদের আগেই যেন আমার ছেলেসহ জিম্মি সবাইকে ছাড়িয়ে আনেন।
রাজুর বড় বোন কামরুন নাহার রুমি বলেন, বাড়িতে নতুন ঘরের কাজ চলছে রাজুর বিয়ে উপলক্ষ্য করে। তার স্মৃতি চারণ করে এখন বাবা-মা শোকে মুহ্যমান। পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভালো নেই।
স্থানীয়রা বলেন, অপহৃত নাবিকদের ভাগ্যে কি ঘটেছে সেই শঙ্কায় ঈদের আনন্দ নেই জিম্মি নাবিকদের পরিবারে। তবে সবার প্রত্যাশা এমন উৎকণ্ঠার সময় পেরিয়ে ফিরে আসুক তাদের স্বজন।
জেবি