দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন। রাবার ড্যাম নির্মিত হলে ‘নদীর মৃত্যু হবে’ উল্লেখ করে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’ নামের সংগঠনটি এই দাবি জানিয়েছে। যদিও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে দীর্ঘ গবেষণা ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এখন বন্ধের দাবি তোলা অযৌক্তিক।
গত শুক্রবার গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’র পক্ষ থেকে রাবার ড্যাম বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অবিলম্বে নদী থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সংগঠনের সদস্য সচিব শরীফ জামিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবেশবাদী সংগঠন ধরা’র সঙ্গে সম্পৃক্ত গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদসহ অনেকেই। যদিও সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।
ধরা’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম দিয়ে নদীর উজানে পানি আটকে দেওয়া হচ্ছে। বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু থেকে প্রায় ৮০০ ফিট পশ্চিমে অবস্থিত এ বাঁধ নদীটির মৃত্যু ডেকে আনার পাশাপাশি ভাটির প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সুপেয় পানি ও ফসলে সেচের জোগানে সংকটসহ মৎস্যসম্পদ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই নদীর অপমৃত্যু কখনোই গ্রহনযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৃষ্টির পানি এই নদীর পানিপ্রবাহের প্রধান উৎস। শুকনা মৌসুমে এই নদীর পানি অত্যাধিক কমে গেলেও বর্ষা মৌসুমে পানি নদীর দুই কুল ছাপিয়ে বয়ে যায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে সময়মত বর্ষা না হওয়ায় মহানন্দা নদী এমনিতেই তার আসল রূপে ফিরে আসতে পারেনি। উপরন্তু এই রাবার ড্যাম হয়েছে ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’। ফলে বর্তমানে ড্যামটির পর কার্যত আর কোনো প্রবাহ না থাকায় নদীর জায়গা দখলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অবিলম্বে এই রাবার ড্যাম ও সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনা অপসারণসহ এমন একটি ধ্বংসাত্মক প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এরপরই প্রকল্পের প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই সময়ের মধ্যে নানান দিক বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। কাজেই প্রকল্পের উপকার বিবেচনা করেই একনেকে পাস হয় এবং কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন-এরইমধ্যে প্রকল্পের ৯২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন রাবার ড্যাম নির্মাণ বন্ধের দাবি অযৌক্তিক ও হাস্যকর।
মহানন্দা নদীর উপর ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৯৩ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি খনন করা হবে ৩৬ দশমিক ০৫ কিলোমিটার নদী। শুরুতে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৫৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৫ টাকা। পরে ব্যয় বাড়ানো হয় ৬৪ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ১১ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে এসে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
এফএইচ