দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১টি লিফটের ৯টিই অচল। দুইটি লিফট দিয়ে রোগীসহ দর্শনার্থীরা চলাচল করে। তাও আবার একটি মাঝেমধ্যে আটকে যায়। হাসপাতালটিতে প্রবেশের পর থেকে নানা ভোগান্তিতে পড়ে রোগীসহ স্বজনরা। গণপূর্ত বিভাগের দোহাই দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জন ভোগান্তির কথা স্বীকার করলেও গণপূর্ত বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা।
সমস্যা যার সারা অঙ্গে। তার ওপরে ভরসা করে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ। পদ্মার এপারের মানুষের চিকিৎসা সেবায় ভরসা স্থল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বয়সের ভারে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে হাসপাতালটিতে। চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে রোগীদের অভিযোগ থাকলেও হাসপাতালটিতে ঢোকার পর থেকে শুরু হয় নানা ভোগান্তির।
গত চারদিন আগে উজিরপুর থেকে সন্তানের চিকিৎসা করতে আসা মুক্তা বলেন, সন্তানের ওষধ কিনতে লিফটে উঠে ২০ মিনিট আটকা ছিলেন। দম বন্ধ হয়ে নিজেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। এমনটাই বলছিলেন এ প্রতিবেদকের কাছে।
তার মতোই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন লিফট নিয়ে নানা বিড়ম্বনায়। ইমার্জেন্সি গেট থেকে রোগী বহন করা ট্রলি নিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়ি থাকতে হয় বহু ক্ষণ।
ইমারজেন্সি গেটের সামনের অংশে দুটি লিফট থাকলেও সচল রয়েছে একটি এবং প্রধান ফটকের মাঝের অংশে ছয়টি লিফ থাকলেও রোগী বহনকারী লিফট রয়েছে একটি। তাও মাঝে মধ্যে আটকে পড়ে। এখানে ১৯৬৮ সালের দুটি লিফটের একটি সচল রয়েছে। যাও নড়বড়ে অবস্থা। এতে ডাক্তার, স্টাফরা চলাচল করে। বাকি লিফটগুলোর অবস্থা বেহাল দশা।
শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক বলছেন, ভবন এবং লিফটগুলো অনেক পুরনো হাওয়ায় বেশিভাগই অচল। তবে লিফটগুলোর দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের হাওয়ায় পত্র প্রেরণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। তিনি জন ভোগান্তির কথা স্বীকার করলেও নিরুপায়।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে লিফটগুলো অচল থাকার কথা স্বীকার করে, শীঘ্রই এ সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫৬ বছর আগে ১৯৬৮ সালে নির্মাণ করা হয় ৫’শ শয্যার বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল। ২০০৬ সালে হাসপাতালটি ১০০০ শয্যায় উন্নতি করা হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিনই এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকছেন প্রায় তিনগুণ রোগী।
এফএইচ