দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপকূলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের উদাসীনতায় মৃত্যুর মুখে শিকারির ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিত্রা হরিণ।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বগাচতর সমূদ্র উপকূল থেকে উদ্ধার হয় আহত পুরুষ হরিণটি।
একইদিন আরও একটি নারী হরিণকে মৃত উদ্ধার করা হয়। হরিণ দুটি শিকারির ফাঁদে পড়ে আহত হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দুপুরে উদ্ধারকৃত আহত পুরুষ হরিণটিকে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম জেলা ভেটেরিনারি ক্লিনিকে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তিন দিন পরও বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) আহত হরিণটি বন বিভাগের সীতাকুণ্ড রেঞ্জেই পড়ে ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন বিভাগের একটি আবদ্ধ ঘরে আটকে রাখা হয়েছে গুরুতর আহত হরিণটিকে। হরিণটির বয়স আনুমানিক ৬ বছর ও ওজন ৫০ কেজি। পেছনের বাম পায়ের হাঁটু সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ায় হরিণটি নড়াচড়া করতে পারছিল না। হরিণটির সামনে খাবার হিসেবে পাতাযুক্ত কয়েকটি ডালপালা পড়ে আছে। কিন্তু সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই ব্যথায় কাতর হরিণটির।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা আরজু বলেন, হরিণটির পেছনের একটি পা সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। যার চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়। আমি পা’টিকে কোনোভাবে বেঁধে ব্যান্ডেজ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম জেলা ভেটেরিনারি ক্লিনিকে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছি।
কিন্তু বন কর্মকর্তা বিষয়টির তোয়াক্কা করেননি। হরিণটির আহত পা পঁচন ধরলে এটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
এদিকে আহত হরিণটিকে উন্নত চিকিৎসার কথা জানালে উপকূলীয় বন বিভাগের সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, উন্নত চিকিৎসার কোনো প্রয়োজন নেই। হরিণটির পা কেটে ফেললেই হবে। এক পা ছাড়া মানুষ যেমন চলতে পারে হরিণও চলতে পারবে।
সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাচতর সমূদ্র উপকূলে শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়া দুইটি চিত্রা হরিণ উদ্ধার করে উপকূলীয় বনবিভাগ। উদ্ধারকৃত হরিণ দুটির একটি মারা গেলেও অপরটিকে আহত অবস্থায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জেবি