দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই চিকিৎসকরা গেলেন প্রমোদ ভ্রমণে। ৩৫ জন চিকিৎসক হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম অনেকটা অচল করে পিকনিকে যান। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরি পাহাড়ে পাঁচ তারকা মর্যাদার দ্যা প্যালেস রিসোর্টে যান।
গত রোববার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহিদুজ্জামানের মৃত্যুর পর তাদের এই প্রমোদ ভ্রমণে শহর জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কর্মরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর ২ দিন না পেরোতেই চিকিৎসকরা হাসপাতালের কার্যক্রম অনেকটা অচল করে এ আনন্দ ফুর্তির আয়োজন করায় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক স্যারের মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের পিকনিকে অংশ নেওয়াটা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে ২৫ জন চিকিৎসক পরিবার পরিজন নিয়ে পিকনিকের জন্য রওয়ানা হন আর দুপুরে আরও ১০ চিকিৎসক সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। চিকিৎসক ও তাদের পরিবার-পরিজন প্রায় ২ শতাধিক মানুষ পিকনিকে অংশ নেয়। সেখানে খাবার দাবার, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গতকাল বুধবার ২১ শে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অনেকটা নীরবেই পিকনিকে থাকেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের একজন স্টাফ জানান, প্রতিবার পিকনিকের আয়োজন হলে জানতাম কিন্তু এবার কৌশলে প্রমোদ ভ্রমণে গেছেন চিকিৎসকরা।
ওই চিকিৎসক জানান, ২৫০ শয্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন চিকিৎসকের সঙ্গে ঝামেলাতে জড়ান তত্ত্বাবধায়ক। চিকিৎসকরা কর্মবিরতি, অসহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে তত্ত্বাবধায়কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু তিনি নীতিতে অটল ছিলেন। আপোষ করেননি। হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে চিকিৎসক ও স্টাফদের ছাড় দেননি। আমূল পরিবর্তন ঘটান তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের। এসব ঘটনায় কিছু সংখ্যক চিকিৎসক তা মেনে নিতে পারেননি।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে সুদীর্ঘকাল ধরে কর্মরত হাসপাতালের আরএমও চিকিৎসক রানা নূরুস সামস ও আরএমও চিকিৎসক ফায়েজুর রহমানকে গত মঙ্গলবার বিকেলে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সদর হাসপাতালের আরএমও চিকিৎসক ফাইজুর রহমান বলেন, আমি ও আরএমও ডা. নূরুস সামস বদলির আদেশ পেয়েছি। আমরা এখন ঢাকায় আছি। পিকনিকের বিষয়টি আমার জানা নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাড. আব্দুল নূর বলেন, অফিস খোলার দিন এত চিকিৎসক পিকনিকে যাওয়ায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পিকনিকে যাওয়া ঠিক হয়নি। এছাড়া হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মৃত্যুর ২ দিনের মাথায় এ ধরনের পিকনিকের আয়োজন নিঃসন্দেহে অমানবিক। হাসপাতালের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা পুটিজুরি পাহাড়ে পাঁচতারকা মানের দ্যা প্যালেস রিসোর্টের সুপার ভাইজার সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হোটেলটি কর্তৃপক্ষের ৩ বেলা খাবারসহ দৈনিক ভাড়া ২১ হাজার টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিকিৎসকদের পিকনিকের জন্য এ হোটেলে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেও বিস্তারিত বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. একরাম উল্লাহ জানান, চিকিৎসকদের পিকনিকে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এটি হাসপাতালের কিংবা বিএমএর কোনো ভ্রমণ ছিল না। শুনেছি কেউ কেউ গিয়েছে, সবাই যায়নি। তবে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের চিকিৎসায় কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। সির্ভিল সার্জন হিসেবে বলতে পারি, প্রতিটি হাসপাতালেই যাতে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে আমার নজরদারি থাকবে।