দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ-মায়ানমার দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত হয়েছে ছোট্ট একটি ছড়া। যেটি তুমব্রু খাল নামে পরিচিত। আর নো ম্যান্স ল্যান্ড পার হয়ে কাঁটাতার দুই দেশকে ভাগ করেছে।
সেই কাঁটাতারের ওপারে দূর থেকে চোখে পড়ে সেদেশের বিদ্রোহী বা স্বাধীনতাকামী দলের সদস্যদের সক্রিয় তৎপরতা। আর এপারের সীমানা পাহারায় টহল দিচ্ছে সীমান্তরক্ষি বাহিনী বিজিবি।
এমন দৃশ্য বলে দেয় দুদেশের সীমান্ত পরিস্থিতির চিত্র। এই সীমান্ত এলাকায় দিনে কিছুটা কম থাকলেও রাতের আঁধারে বাড়ছে ব্যাপক গুলাগুলি। সবশেষ গত রাতে বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে তুমব্রু-ঘুমধুম এলাকা। অনেকে রাতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে ভোরে ফিরেছে বাড়িতে। সীমান্তের এমন ভয়ঙ্কর উত্তেজনায় শিশু ও বয়ষ্কদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে অনেকে গোলার এমন শব্দের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন। মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মায়ানমার সীমান্তের বাংলাদেশ অংশের ওপারে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। মিয়ানমার বাহিনী ও স্বাধীনতাকামী গ্রুপের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে আবারও ওপার থেকে মর্টার শেল তুমব্রু কোণারপাড়ায় এবং পশ্চিমকুল এলাকায় মর্টার শেল সদৃশ্য (আরএম) বস্তু এসে পড়েছে।
তবে মাটিতে পড়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এপারে। পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যাপক তৎপর রয়েছে সীমান্ত রক্ষিবাহিনী বিজিবি।
এদিকে চলমান পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊধর্বতন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তুমব্রু এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, গতকাল দিনের বেলা কিছুটা শান্ত থাকলেও রাতে সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গুলাগুলির শব্দ ভেসে আসে। বুধবার সকালে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু কোণারপাড়ায় একটি বসতবাড়ির সামনে এবং পশ্চিমকুল এলাকায় জমির মাটিতে পড়ে থাকা দুটি মর্টার শেল দেখতে পায় স্থানীয়রা। বিষয়টি স্বীকার করেছেন ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ।
বুধবার সকালে এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যান জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা সকালে ঘুমধুম ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রোহিঙ্গা ট্রানজিট পয়েন্ট, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, এপারের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। এই পর্যন্ত সীমান্তে বেশ কয়েকটি মর্টারশেল বিস্ফোরণের খবর রয়েছে। এখন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সীমান্তে বিজিবি তৎপর রয়েছে। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর বিরাপত্তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজন পড়লে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে পরীক্ষাকেন্দ্র। মানুষ যাতে আতঙ্কিত না হয় সেজন্য এলাকায় জনপ্রতিনিধিরাও কাজ করছেন।
বান্দরবান পুলিশ সুপার সৈকত শাহিন বলেন, সীমান্তে বিজিবি, পুলিশসহ আমাদের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ওপারে কিছু মর্টার শেলের শব্দ শুনা গেছে। তবে এলাকার মানুষকে আমরা আশ্বস্থ করতে চাই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের সুরক্ষার জন্য সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বান্দরবান পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল করিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার বিশ্বাস, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাকারিয়া, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জেবি