দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গোপনে নিয়োগ পরীক্ষার ভেন্যু পরিবর্তন করে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে ও অন্যান্য চাকরি প্রার্থীদের না জানিয়ে চারটি পদে চারজনকে নিয়োগ দেওয়ার সহযোগিতা করার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ ১১জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে।
তাড়াশ সহকারী জজ আদালতের বিচারক মো. লোকমান হাকিম মামলাটি সাময়িকভাবে গ্রহণ করে ৩০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শনোর আদেশ দিয়েছেন।
সোমবার (২২ জানুয়ারি) মামলাটি দায়ের করেছেন তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের পাড়িল গ্রামের হাদিউল ইসলাম, গোন্তা গ্রামের জয় ইসলাম ও ফাতেমা খাতুন।
মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতের পেশকার মো. মুনতাসীন মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, গোন্তা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ টি.আর আব্দুল মান্নান, সভাপতি আতিকুর রহমান, তাড়াশ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), পরিচালক (প্রশানক ও অর্থ) ও ডিজির প্রতিনিধি মো. আবু নাঈম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ি গ্রামের মো. সেলিম রেজা, লাউতা গ্রামের সাগর ও স্বপ্না খাতুন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদীরা উপজেলার গোন্তা আলিম মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, নিরাপত্তাকর্মী এবং আয়া পদে চারটি শূন্য পদে ২০২৩ সালের ২৭ জুন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে ওই চার প্রার্থীসহ ভিন্ন ভিন্ন পদে যথাযথ নিয়মে আবেদন করেন। এরপর ২০২৩ সালের ২১ জুলাই বিজ্ঞপ্তির তিনটি পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়। পরে একাধিক প্রার্থী টাকা দিয়েও চাকরি পাচ্ছেন না এবং নিয়োগ পরীক্ষাটি স্থগিতের জন্য ২০২৩ সালের ২০ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বের দিন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মী পদে মো. জয় ইসলাম ও আয়া পদে ফাতেমা খাতুন স্বাক্ষর করেছিলেন।
তবুও ২০২৩ সালের ২১ জুলাই নির্ধারিত পরীক্ষার তারিখে একাধিক চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থী নিয়োগ নেওয়ার জন্য টাকা দিয়েও প্রতারণার শিকার হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে একজন কিটনাশক পাণ করেন এবং অপর এক প্রার্থী পরীক্ষা কক্ষেই রশি দিয়ে গলায় ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জটিল ও কঠিনে পরিণত হওয়ায় অত্র নিয়োগের ডিজির প্রতিনিধি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মাদ আবু নঈম নিয়োগ স্থগিত করে চলে যান।
পরে পরীক্ষার ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসাকে মাধ্যম করে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লিখিত আবেদন করেন ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ টি.আর আব্দুল মান্নান।
যা ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ওই লিখিত পত্রে সুপারিশ করেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
মাদরাসার অধ্যক্ষ টি.আর আব্দুল মান্নান ও সভাপতির মো. আতিকুর রহমানের যোগসাজসে অবৈধভাবে অন্য কোনো প্রার্থীদের প্রবেশপত্র না দিয়েই গোপনে গত ২৯ ডিসেম্বর ওই ৪ পদে ৪ জনকে নিয়োগ সম্পন্ন করে বিল প্রদানের জন্য মাদরাসা অধিপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাদীদের পক্ষের আইনজীবী মো. একরামুল হক বলেন, মামলাটি দায়েরর পর বিজ্ঞ আদালতে বিবাদীগণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে সভাপতি, অধ্যক্ষ ও নিয়োগপাপ্ত সেলিম রেজা, সাগর ও স্বপ্না খাতুনকে ৩০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শনার আদেশ দিয়েছে।
জেবি