দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে অব্যাহত রয়েছে শীতের তীব্রতা। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো জেলা সেইসঙ্গে বয়ে যাচ্ছে হিমেল হাওয়া।
এ জেলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে কাঁপছে ঠাকুরগাঁওয়ের জনপদ। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
ঠাকুরগাঁও জেলায় আবহাওয়া অফিস নেই। তবে প্রতিদিন সকাল ছয়টার দিকে এই জেলায় তাপনিয়ন্ত্রক যন্ত্রের মাধ্যমে মাপমাত্রা রেকর্ড করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ছয়টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলায় ছয় দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। দিনভর থাকছে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ। রাস্তায় মানুষও কম। কনকনে শীতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। দিনের বেলা সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। রাতে-দিনে শীত থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে তাপ পোহাচ্ছেন অনেকে।
অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে নিম্নআয়ের মানুষদের জীবনযাত্রা থমকে গেছে। কাজকর্মে গতি কমে যাওয়ায় অনেকের রোজগার কমে গেছে।
শহরের গোবিন্দনগর এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বেড়েছে। ঘন কুয়াশার চাদরে পুরো শহর ঢেকে থাকছে। এর ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
শীত নিয়ে স্থানীয়রা জানান, বেলা গড়ালেই হিমেল বাতাসে ঠান্ডা পড়তে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকে খুব ঠান্ডা। বরাবরের মতোই ঠাকুরগাঁও জেলায় শীতের মাত্রাও একটু বেশি হয়। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বেশি ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের পারদ নেমে আসে ঠাকুরগাঁও জেলায়।
এদিকে, দিন-রাতে তাপমাত্রা দুই রকম থাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি-কাঁশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এছাড়াও হাসপাতালে শয্যার থেকে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রকিবুল আলম চয়ন।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। সেইসঙ্গে হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় ঠান্ডা বেশি অনুভব হয়। সরকার থেকে পাওয়া ৩৬ হাজার কম্বল অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার কম্বলের জন্য চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
জেবি