দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মাদক নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছেন ৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এসময় তিনি চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সোমবার (১৫ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে নগরীর প্রেসক্লাব ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শামীম ওসমান বলেন, মাদক নির্মূল করতে গিয়ে দেখা যাবে এর সঙ্গে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, প্রশাসনসহ বিভিন্ন সেক্টরের লোকজন জড়িয়ে আছে। যদি তারা জড়িত না থাকে তাহলে মাদক বন্ধ হবে না কেন? তবে সাংবাদিকসহ নারায়ণগঞ্জের মানুষ সহযোগিতা করলে মাদক, চাঁদাবাজি ভূমিদস্যু, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং থেকে নারায়ণগঞ্জকে মুক্ত করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় বিএনপি-জামাতের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, সামনের দুই-তিন মাস ওরা আবারও ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। যারা স্বপ্ন দেখেছিল সরকার পড়ে যাবে, তারা ক্ষমতায় আসবে। যারা আগুন সন্ত্রাস করে মানুষ মারে তারা ছোট্ট শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। যারা রাজনীতিকে ধান্দা হিসেবে নিয়েছে তারা রাজনীতিকে পঁচিয়ে ফেলেছে।
নারায়ণগঞ্জের পুরনো দিনের নানা ঘটনা তুলে ধরে শামীম ওসমান বলেন, আমাদের নারায়ণগঞ্জে আগে এক নিষিদ্ধ পল্লী ছিল। তার জন্য আমরা অনেক লজ্জিত থাকতাম। আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হতো যে, এক ব্যবসায়িক শহরে কিভাবে এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড হয়। নিষিদ্ধপল্লিতে ৪ হাজারের মতো নারী জড়িত ছিল। আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানাই, যার ফলে আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে নিষিদ্ধপল্লী উচ্ছেদই নয়, তাদের পুনর্বাসন করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু ভালো কাজ করা আরও বাকি আছে। নারায়ণগঞ্জকে আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর করতে আমাদের কাজ করা জরুরি। তাই আজ আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমার কাজে আপনাদের সাহায্য চাই।
তিনি বলেন, আমি এবার নারায়ণগঞ্জে একটি কাজ করতে চাই। তা হলো নারায়ণগঞ্জ থেকে মাদক-সন্ত্রাস-ইভটিজিং নির্মূল করব।
নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি এখন অনেকটা এরকম যে, রাতে প্রয়োজনে আমাদের ঘরের ছেলেরা বেরুতো পারলেও মেয়েরা পারছে না। মেয়েদের মা-বাবা বলেন, বাইরে নিরাপদ না। বাইরে ইভটিজার আছে, সন্ত্রাসীরা আছে, মাদকাসক্তরা আছে। বের হলেই বিপদ হবে। আমাদের নারায়ণগঞ্জ কেন এমনটা থাকবে? সিঙ্গাপুর, আমেরিকার মতো দেশে রাতে মেয়েরা অনায়াসে বের হতে পারে। আমাদের নারায়ণগঞ্জকে কেন এমন করা সম্ভব হবে না? আমাদের একসঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে। এসব সমস্যার মূলেই আছে মাদক। মাদক থেকে নেশাগ্রস্ত, তা থেকে ইভটিজিং-চাঁদাবাজি ও শেষে সন্ত্রাস কাজে লিপ্ত হওয়া এই ধারায় সমস্যা বাড়ছে। বাড়িতে একটা বাচ্চা মাদকে জড়ানো মানে বাড়িটা দোযখে রূপ নিলো। নারায়ণগঞ্জ থেকে এই মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ইভটিজিং দূর করব।
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে কমিটমেন্ট করেছি, মাদক নির্মূল করতে হবে। আমি একটি ক্লিন নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই। আমি বোমা হামলা থেকে বেঁচে গেছি হয়ত এ কাজের জন্যই। একটা সংগঠন করা হবে যার নাম হবে প্রত্যাশা। এতে সকল শ্রেণীর মানুষ যেমন শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ব্যাংক কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী এক সাথে কাজ করবেন। প্রত্যেক ওয়ার্ডে এই সংগঠন থাকবে। যদি হাজার হাজার মানুষ মিলে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই তবে কে ঠেকাতে পারবে। সংগঠনে আমাদের প্রধান সদস্যরা হবে তরুণরা, যুবকরা। এমন এক সমাজ গড়তে হবে যাতে ঘর থেকে মেয়ে রাত ১১টায় যাতে বেরুলেও নিজেকে নিরাপদ অনুভব করতে পারে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি কাজ করব, সাথে আপনারাও আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। একটা সুন্দর সমাজ গড়তে আসুন আমরা সবাই মিলে কাজ করি। সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ যদি একসঙ্গে মিলে কাজ করি, আমি বিশ্বাস করি এক মাসের মধ্যে মাদক নারায়ণগঞ্জ থেকে নির্মূল হবে। এতে কোনো রাজনীতি নাই, ক্লিন নারায়ণগঞ্জ গড়তে সবার সাহায্য চাই। ভালো মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু অল্প সংখ্যক খারাপ মানুষের জন্য ৯০ ভাগ মানুষ বিপাকে থাকে। আমি মাদক নির্মূলে আল্লাহ ছাড়া কারও সঙ্গে আপোষ করব না।
সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলার জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এফএইচ