দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামানকে আগেই সমর্থন জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা ও তাদের সমর্থকরা। এবার নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে একরামুজ্জামানকে সমর্থন দিলেন জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) মনোনীত প্রার্থী শাহানুল করিম ওরফে গরীবুল্লাহ সেলিম।
রোববার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নাসিরনগর উপজেলার পরিষদের পেছনে অবস্থিত একরামুজ্জামানের বাসায় গিয়ে তাকে সমর্থন জানিয়ে তার পক্ষে ভোট চান তিনি। শাহানুল নাসিরগর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) ওই আসনে বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামান কলার ছড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করা এ রাজনীতিক গত নভেম্বরে দল থেকে বহিষ্কার হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। যদিও তিনি একসময় আওয়ামী লীগ করতেন। একরামুজ্জামান আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বড়ভাই সৈয়দ এ. কে. আনোয়ারুজ্জামান স্টার সিরামিকসের চেয়ারম্যান।
একরামুজ্জামানকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাপার প্রার্থী শাহানুল করিমের মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে একরামুজ্জামানের বাড়িতে তাকে সমর্থন জানিয়ে রাখা শাহানুলের বক্তব্যের একটি ক্লিপ ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
বক্তব্যে শাহানুল বলেন, দেখলাম মানুষের মধ্যে আমাদের প্রিয় বড় ভাই সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামানকে নিয়ে একটি উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। আমি কিন্তু প্রচারণায় নামি নাই। কারণ আমি দেখতে চাচ্ছিলাম মানুষ যেদিকে- আমার মূল বক্তব্য হলো কারো না কারো মাধ্যমে মানুষের উপকার হলেই আমি এই কাজটা করতাম। আমি দেখলাম, তিনি অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন লোক, বাংলাদেশের মধ্যে দুই-তিনজনের মধ্যে একজন এবং ভালো মানুষ।
তিনি বলেন, ওনার (একরামুজ্জামান) যোগ্যতা আছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার। হাজার হাজার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন-কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। যেটা অন্য কোনো প্রার্থী কিন্তু করে নাই। করতে পারেও নাই। তাদের সেই যোগ্যতা আল্লাহ দেয়ও নাই'।
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে সমাজের সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আমিতো আর একা একা বসে থাকতে পারি না। দলমত নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, ভাইকে (একরামুজ্জামান) এমপি বানানোর জন্য। তাহলে আমাদের কী করতে হবে! জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী যেখানে আছেন সবাইকে বলবেন যে আমি বলছি ঘরে ঘরে গিয়ে কলার ছড়ি মার্কায় ভোট চাই'।
জাপার সমর্থন পেয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় শাহানুল করিম ও তার সমর্থকদের ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামান।
এর আগে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুমা আক্তার এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ. টি. এম. মনিরুজ্জামান সরকার দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুজ্জামানকে সমর্থন জানান।
যদিও স্বতন্ত্র পদে দাখিল করা তাদের দুজনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এক শতাংশ ভোটার সাক্ষরিত তালিকায় গড়মিলের কারণে বাতিল করে দেন রিটার্নিং অফিসার।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামান, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির বকুল হোসেন এবং ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইসলাম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেবি