দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সুবর্ণসাড়া গ্রামে গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এলাকাবাসী। এতে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। পরে এলাকাবসী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন শব্দের উৎস ওই গ্রামের শ্রমীকলীগ নেতা মোতালেব সরকারের বাড়িতে।
এ নিয়ে গত পাঁচদিন যাবত চলছে নানা গুঞ্জন। বিস্ফোরণের মূল কারণ জানা গেল শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে। সেদিনের সেই বিস্ফরণের আহত হন দুজন। তাদের একজন ফজলুর হক ফজলু ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকেই জানানো হয়, ঐ দিন দুপুরে শ্রমীকলীগ নেতার বাসায় বোমা তৈরির সময় হঠাৎ বিস্ফরণ হয়। আর সেই সময় গুরুতর আহত হয় ফজলু ও জিন্নাহ। সেদিন শ্রমীগলীগ নেতা মোতালেব দ্রুত তাদের দুজনকে গাড়িতে করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ফজলুল হক ফজলু।
শ্রমীকলীগ নেতা মোতালেব এলাকায় সংসদ সদস্য ও বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা মনোনীত আব্দুল মোমিন মণ্ডলের একান্ত আস্থাভাজন বলে গুঞ্জন রয়েছে। বেলকুচি-চৌহালী এ আসনে এবার নৌকা প্রতীকের বিপরীতে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা নির্বাচনে বিস্ফোরণ করার জন্যই এ বোমা তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্ফোরণের ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি এখনও। সেদিন আসলেই কী বিস্ফরণ হয়েছিলো তা নিয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ঐ দিন ঘটনার পর এলাকর উৎসুক জনতা সেখানে জড়ো হলেও বাড়িটিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় রহস্য দেখা দেয়। ঘটনার দিন দুপুর দেড়টা থেকে পৌনে দুটার মধ্যে শব্দ শুনতে পান বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা ছুটে গিয়ে দেখে ঘটনার পরপরই কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে দুজন পুরুষকে আহত অবস্থায় সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা ধারণা করেন বোমা বা ককটেলজাতীয় কিছু তৈরির সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেদিন রাতেই পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সুবর্ণসাড়া গ্রামে তদন্ত করেছেন। তবে কোনো কূলকিনারা পাননি তারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা বেলকুচি থানার এসআই শিমুল মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সুবর্ণসাড়া গ্রামের মজনু সরকার বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে যে বিকট শব্দ শুনেছি আমরা দৌড়ে গেলে সরকার বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। আমরা আর কিছু দেখতে পাইনি।
এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে মোতালেব সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নৌকার সমর্থক। প্রচারে ছুটে বেড়াচ্ছি। মঙ্গলবার দুপুরে রান্নার সময় বাড়িতে ব্যবহৃত প্রেশার কুকারটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। তার দাবি, এ ঘটনাকে রং চড়িয়ে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষের লোকজন। তবে শনিবার সকাল থেকে মোতালেবকে আর পাওয়া যায়নি।
নিহত ফজলুল হক ফজলু (৪৫) কুষ্টিয়া সদর থানার মিলপাড়া মহল্লার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। আহত জিন্নাহ আলী (৪৫) এনায়েতপুর থানার সৈদিয়া চাদপুর গ্রামের তাছের আলীর ছেলে।
নিহত ফজলুর ভাই মজনু বলেন, আমার ছোট ভাই ফজলু দির্ঘদিন যাবত রাজবাড়ী থাকতেন। গত পাঁচ মাস আগে একটি মামলায় সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হলে পুলিশ তাকে গ্রামে নিয়ে এসেছিল। আমরা গত বুধবার জানতে পারি যে ফজলু বোমা হামলায় আহত হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি মোতালেব নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা আমার ভাইকে বোমা বানানোর জন্য সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। সেই বোমা তৈরির সময় একটি বোমা বিস্ফোরণ হলে আমার ভাই আহত হয়। মোতালেব পুরো একদিন ফজলুকে লুকিয়ে রেখেছিল। পরে ওর চিৎকার সইতে না পেরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করে। আজ ভোর রাতে আমার ভাই হাসপাতালে মারা গেছে। মাগরিবের পরে জানাজা হবে।
ফজলুর ছোট ভাই বিপুল বলেন, আমার ভাইকে মোতালেব নামে সিরাজগঞ্জের এক আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচনের জন্য নিয়ে গিয়েছিল। আজ তার জন্যই আমার ভাই মারা গেছে। আমি মোতালেবের বিচার চাই।
সিরাজগঞ্জের এএসপি (বেলকুচি সার্কেল) জন রানা বলেন, ওই বাড়িতে গেলে মোতালেবের স্ত্রী-স্বজনরা তাদের জানান, রান্নার সময় প্রেশার কুকার বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে কোনো আলামত দেখাতে পারেননি। তবে বোমাজাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের আলামত মেলেনি। যে কালো মাইক্রোবাসের কথা বলা হচ্ছে সেটি এক প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণার গাড়ি। সেটিতে তল্লাশি করেও আলামত পাননি। তবে বেলকুচি থানা পুলিশ শব্দের বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
জেবি